মুহাম্মদ মিজান বিন তাহের, বাঁশখালী চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পণ্য বিক্রিতে অতিরিক্ত ১০ টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। তাদের অভিযোগ টিসিবি পণ্য এবার ৫৪০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও নেয়া হচ্ছে ৫৫০ টাকা। চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভা ডিলার মেসার্স আশা এন্টার প্রাইজের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন ভোক্তারা। তবে ডিলারের প্রতিনিধির দাবি করেছেন ভাংতি টাকা না থাকার কারণে কয়েকজনের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ টাকা নেওয়া হয়েছে এবং পন্য নেওয়ার ব্যাগ সাথে নিয়ে না আসায় ২০ টাকা করে ব্যাগের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে এবারে টিসিবি পণ্যের প্যাকেজে জনপ্রতি ২লিটার ফ্যামিলি ফটিফাইড পাম অলিন সয়াবিন তেল, ১ কেজি খোলা চিনি, ২ কেজি খোলা মসুরির ডাল ও ৫ কেজি চাল। যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪০ টাকা। বাঁশখালী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডে বাহার উল্লাহ পাড়া এলাকার মুফিজ ভিলার নিচ তলায় প্রতিদিন প্রায় হাজারের উপর ভোক্তার কাছে পন্য বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন শত শত মানুষ প্রচন্ড রোদে তীব্র গরম সর্য্য করে দীর্ঘ ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে এসব পন্য সংগ্রহ করেছেন।
অতিরিক্ত ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, টিসিবির স্ট্রক করা ওই দোকানে মূল্য তালিকা সহ পণ্যের বিস্তারিত তালিকা ও ডিলারের নাম ঠিকানা সহ ব্যানার লাগানোর নিয়ম থাকলেও সেখানে ওই ব্যানার ব্যবহার করা হচ্ছে না। টিসিবি কার্ডধারী ভোক্তাদের বাঁশখালী পিএবি প্রধান সড়কের পাশে দীর্ঘ লাইন ধরে টিসিবি কার্ড স্ক্যান করে টাকা জমা দিয়ে মালামাল নিতে হচ্ছে। তদারকির দায়িত্বে থাকা মোঃ আসিফ ভাংতি টাকা না থাকার অজুহাতে ভোক্তাদের থেকে অতিরিক্ত ১০ টাকা করে নিচ্ছেন। অনেক ভোক্তারা সাথে পন্য ব্যবহারকারী ব্যাগ না থাকায় ব্যাগের দাম হিসেবে অতিরিক্ত আরো ২০ টাকা দাবী সহ ৫ কেজি চাউলের জায়গায় সাড়ে ৪ কেজি কিংবা ৪ কেজি ৬০০ গ্রামে চাউল দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা।
টিসিবি কার্ডধারী রহিমা বেগম, ফাতেমা বেগম, নুর জাহান, জোৎসা আক্তার, ফরিদ আহমদ, এনাম, আব্দুল হাকীম ও নাজিম উদ্দীন সহ বেশ কয়েকজন ভোক্তারা জানান, ৫৪০ টাকার জায়গায় আমরা ৫৫০ টাকা দিলে ভাংতি টাকা নাই অজুহাতে তারা ৫৫০ টাকা রেখে দেন।
বাঁশখালী উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার
মোঃ মোহসেন আলী বলেন, ভাংতি টাকা না থাকার অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত ১০ টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে বলে আমাকে বেশ কয়েকজন ভোক্তারা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মেসার্স আশা এন্টারপ্রাইজ স্বত্বাধিকারী তারেকুল ইসলাম জানান, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে টিসিবি কার্ডধারী পন্য ৩ টি ওয়ার্ডে একসাথে বিতরণের জন্য মাইকিং করে ছিলাম। একসাথে প্রচন্ড ভিড় হওয়ার কারণে ভোক্তাদের নিকট থেকে ভাংতি টাকা না থাকায় ভুলক্রমে অতিরিক্ত ১০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে টিসিবি পন্য তদারকির দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রামের অফিস প্রধান মিশকাতুল আলম জানান, বাঁশখালী পৌরসভার টিসিবি কার্ডধারী ভোক্তাদের
থেকে অতিরিক্ত টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ এই প্রথম আপনার কাছ থেকে শুনলাম। ওনি না কোন ডিলার গ্রাহকদের কাছ থেকে কোন অবস্থাতেই অতিরিক্ত কোনো টাকা নিতে পারবেন না। বিষয় টা নিয়ে অবগত হয়েছি। তদন্ত পূর্বক ওই ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।