পটিয়া প্রতিনিধি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম – ১২ (পটিয়া) আসনে আবারও তোপের মূখে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি। গত কয়েকদিন আগেও কাশিয়াইশ ইউনিয়নে দলীয় নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়েছিলেন তিনি। শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে পটিয়া উপজেলার দক্ষিণ ভূষি ইউনিয়নের দূর্গাবাড়ি এলাকায় গণসংযোগ করতে গেলে ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। অনুসন্ধানে জানা যায়, দলের ১৫ বছর ক্ষমতাকালীন সামশুল হক চৌধুরী নিজে এমপি ও হুইপ হয়ে নিজের আঁখের ঘুছিয়েছেন। বিএনপি জামায়াত জাতীয় পার্টি থেকে অনুপ্রবেশকারীদের দলে সুযোগ সুবিধা দিয়ে প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দলে কোণঠাসা করে রাখা হয়। হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলেছেন দল যাকে নৌকা প্রতীক দেবেন তিনি তার পক্ষে কাজ করবেন। এতকিছুর পরও তিনি মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সমগ্র পটিয়ায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর উপর চরম ক্ষুব্দ। শনিবার দক্ষিণ ভূর্ষি সবুজসঙ্গ দূর্গাবাড়ি এলাকায় নৌকার সমর্থকদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি চলছিল। এসময় স্বতন্ত্র প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরী গাড়ি বহর নিয়ে ৫০/৬০ জন উপস্থিত হয়। প্রচারণার এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় দুই পক্ষের কর্মী সমর্থকরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। উভয়পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও মারমুখী অবস্থার সৃষ্টি হলে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজনা থামিয়ে দেয়। এতে বড় ধরণের সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পায়। এ ব্যাপারে দক্ষিণ ভূর্ষি ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মাহাবুল আলম মেম্বার জানান, পূর্ব নিধারিত দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রার্থী,চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর পক্ষে গনসংযোগ ও প্রচারণা চলছিল। এমন সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরী বহিরাগত লোকজন নিয়ে গাড়িবহরে আমাদের প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় সাধারন ভোটার ও আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ করে। পরবর্তীতে পুলিশ উপস্থিত হলে অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়ায় উভয় পক্ষ প্রচারনা শেষ করেন। এ ব্যাপারে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: সোলাইমান জানান, স্লোগান পাল্টা স্লোগান নিয়ে নৌকা ও ঈগল মার্কার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।