মুহাম্মদ মিজান বিন তাহের, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি-
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের অফিস সহকারী শাহ আলমকে (৪৬) কে আটক করেছে দুদক। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশন-২ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে।
দুদকে অভিযোগকারী মোসাদ্দের মাসুদ বলেন, চাকরি থেকে অবসরের পর চাকরির ফাইল ট্রেজারিতে পাঠানো জন্য ওই কর্মচারী অফিস খরচ দাবি করে ৯০ হাজার টাকা। আমি সোনালী ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা এবং বিকাশে ১০ হাজার টাকা প্রদান করি। আজ নগদে ২০ হাজার টাকা দিয়েছি।
আটককৃত অফিস সহকারী শাহ আলম বলেন, আমাকে তার ফাইলের বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা অফিসের জন্য মাত্র ১০ হাজার টাকা বিকাশে দেওয়া হয়েছে। আমি আর কোন টাকা তার কাছ থেকে গ্রহণ করিনি। চেকের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা গ্রহণ করার বিষয় টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে ফাঁসানোর জন্য মাসুদ এসব চেষ্টা করতেছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সরওয়ার হোসেন ও মনিরুল ইসলাম বলেন, অফিস সহকারী শাহ আলম বাঁশখালীতে যোগদান করার পর থেকে পরিবার পরিকল্পনা কোন কর্মকর্তা কর্মচারী কোন দিন প্রতারিত হয়নি। কারো কাছ থেকে কোন দিন ঘুষ লেনদেন আমরা শুনিনি। তবে মাসুদ আমাদের অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী ছিল। বিগত ৭-৮ বছর পূর্বেও সে মানুষকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন, মেজর সহ বিভিন্ন বাহিনীর অফিসার সেজে মানুষের সাথে প্রতারণা করত। যার কারণে চাকুরী থেকে বরখাস্ত সহ ২/৩ বার জেল ও কেটেছে। তার বিরুদ্ধে বিগত সময়ে অভিযোগের শেষ ছিল না।
বাঁশখালী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (এমসিএইচ) ডাঃ শামীমা আক্তার বলেন, অফিস সহকারী হিসেবে তার এমন কোনো আচরণ আমি এ পর্যন্ত দেখিনি। তদন্ত করলে মূল্য রহস্য বের হয়ে আসবে।
অভিযানে দুদকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন,দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মুসাব্বির আহমেদ,
সহকারী পরিচালক মো: জসিম উদ্দিন, উপ-সহকারী পরিচালক আবুল হাসান, সুরাইয়া সুলতানা,
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ খালেদ সাইফুল্লাহ, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার, সেকেন্ড অফিসার আরিফুল ইসলাম সহ দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রামের কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মুসাব্বির আহমেদ বলেন, চাকরি থেকে অবসরকালীন সময়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মোহাম্মদ মোসাদ্দের মাসুদের (নিরাপত্তা প্রহরী) কাছ থেকে অফিসের কাগজপত্র ঠিক করতে ৯০ হাজার টাকা দাবি করেন। প্রথম দফায় ব্যাংক চেকের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে আবারও ২০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হয়। সমন্বিত দুদকের টিম অভিযান চালিয়ে ড্রয়ার থেকে টাকাসহ তাকে আটক করা হয়। এ সময় অফিসের বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন।