মোঃ রিয়াজ আহম্মদ
লংগদু, রাঙামাটি প্রতিনিধি
রাঙামাটি—পাহাড়, বন আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি কৃষিতেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে। সাম্প্রতিক সময়ে এখানকার পাহাড়ি কৃষকদের আস্থার ফসল হয়ে উঠেছে ‘সোনালি হলুদ’। কম খরচে বেশি লাভের আশায় জুম চাষের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে হলুদ চাষে ঝুঁকছেন পাহাড়ি জনপদের কৃষকরা।
কৃষি বিভাগ জানায়, রাঙামাটির পাহাড়ি মাটি ও আবহাওয়া হলুদ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানে কম সেচ ও স্বল্প রাসায়নিক ব্যবহারে উৎপাদিত হচ্ছে উন্নতমানের প্রাকৃতিক পাহাড়ি হলুদ, যার চাহিদা স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও বাড়ছে।
রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় প্রতি একর জমিতে কয়েক টন পর্যন্ত কাঁচা হলুদ উৎপাদন হচ্ছে। ফসল তোলার পর কাঁচা হলুদ কেটে ৫ থেকে ৭ দিন রোদে শুকানো হয়। সাধারণত ৪ থেকে ৫ কেজি কাঁচা হলুদ শুকিয়ে পাওয়া যায় ১ কেজি শুকনো হলুদ, যা বাজারে তুলনামূলকভাবে বেশি দামে বিক্রি হয়। ফলে কৃষকদের আয় আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।
একজন কৃষক জানান, “হলুদ চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। তবে ভালো রাস্তা আর সরকারি সহায়তা পেলে আমরা আরও বড় পরিসরে চাষ করতে পারবো।”
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. ইসরাফিল হক বলেন, “হলুদ চাষ পাহাড়ি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। পরিকল্পিতভাবে চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকরা আরও লাভবান হবেন এবং এই অঞ্চলের কৃষি আরও এগিয়ে যাবে।”
হলুদ প্রক্রিয়াজাতকরণে যুক্ত হচ্ছেন পাহাড়ি এলাকার নারী ও তরুণরাও। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে কমছে মৌসুমি বেকারত্ব।
প্রাকৃতিক পাহাড়ি হলুদ এখন আর শুধু একটি ফসল নয়—এটি আত্মনির্ভরতার নতুন গল্প। সঠিক পরিকল্পনা, বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সহায়তা পেলে এই সোনালি ফসল বদলে দিতে পারে রাঙামাটির পাহাড়ি অর্থনীতির চিত্র।