নিজস্ব প্রতিবেদক | হামিদ হোসাইন
মহেশখালী
মহেশখালী পৌর শহরের গোরকঘাটা বাজারে এলপি গ্যাসের যে সংকট দেখানো হচ্ছে, তা বাস্তবে কৃত্রিম—এমন চিত্র উঠে এসেছে সরেজমিন অনুসন্ধান ও প্রশাসনের অভিযানে। অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেলে বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু জাফর মজুমদার।
অভিযানকালে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য রাখার অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় ৩টি মামলায় ৩ জন ব্যবসায়ীকে মোট ৫ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এর আগে বাজার ঘুরে দেখা যায়, একাধিক দোকানে ক্রেতাদের বলা হচ্ছে—‘গ্যাস নেই’। কিন্তু একই দোকানেই কিছুক্ষণ পর অন্য ক্রেতাদের কাছে বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বুঝে দাম হাঁকানোর এই প্রবণতা বাজারজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।
১৬ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে এই প্রতিবেদক নিজেই গোরকঘাটা বাজারের কয়েকটি পরিচিত দোকানে গ্যাস কিনতে গেলে দোকানিরা গ্যাস নেই বলে জানান। অথচ পরবর্তী সময়ে ওই দোকানগুলোতেই বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করতে দেখা যায়। দাম জানতে চাইলে কেউ নির্দিষ্ট মূল্য বলতে রাজি হননি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আনোয়ার স্টোর (সালাহউদ্দীন সওদাগরের দোকান) ছাড়া বাজারের অধিকাংশ দোকানেই একই কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনছেন।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু জাফর মজুমদার বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও ভোক্তা হয়রানির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের মতে, খুচরা দোকানে অভিযান জরুরি হলেও গ্যাস ব্যবসায়ীদের মজুদ ও গোডাউন পর্যায়ে নজরদারি না বাড়ালে কৃত্রিম সংকটের এই অদৃশ্য চক্র বন্ধ হবে না।