ক্ষমতার ১৫ বছরে কপালে জোটেনি আওয়ামী লীগের অফিস

 

আ ন ম সেলিম,পটিয়া(চট্টগ্রাম) :

চট্টগ্রাম -১২ পটিয়া আসনে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন সামশুল হক চৌধুরী। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে একইভাবে এমপি হন তিনি। তাকে হারিয়ে ২০২৪ সালের নির্বাচনে এমপি হন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। অবশ্যই তিনি ক্ষমতায় ছিলেন মাত্র সাত মাস। দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর দল ক্ষমতায় থাকলেও পটিয়ায় নেই কোন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়।

পটিয়ার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ,অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এমপি সামশুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে সংগঠন দুর্বল করার অভিযোগ করেছেন। ৫ আগস্ট পরবর্তী প্রায় ১৮ মাস সারাদেশে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় তালাবন্ধ ছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় খোলা শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থায়ী দলীয় কার্যালয় না থাকা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। স্থানীয় একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, পটিয়ার সাবেক এমপি ও হুইপ এমপি সামশুল হক চৌধুরী ব্যক্তি উদ্যোগে আলিশান গাড়ি-বাড়ির মালিক হলেও গত ১৫ বছরে এলাকায় দলের একটি স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী কোন কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করেননি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এনিয়ে উপজেলা,ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা সমালোচনার ঝড় তুলেছেন।

তাদের অভিযোগ, ১৫ বছর ধরে একটি ‘নিজস্ব বলয়’ গড়ে তুলে সংগঠন পরিচালনা করা হয়েছে। এতে তৃণমূলের বহু পুরোনো ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা উপেক্ষিত হয়েছেন। ফলস্বরূপ সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন বেড়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি বড় উপজেলায় দলীয় কার্যালয় না থাকা সাংগঠনিক দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে। দলীয় কার্যালয় শুধু প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়, এটি কর্মীদের মিলনমেলা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে। নিয়মিত রাজনৈতিক চর্চা ও কর্মী-সংগঠন সক্রিয় রাখতে স্থায়ী কার্যালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দলকে শক্তিশালী করতে হলে স্থায়ী কার্যালয় প্রতিষ্ঠা, নিয়মিত কর্মীসভা এবং সব স্তরের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা জরুরি।

ভাটিখাইন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জসিম উদ্দীন ফেইসবুকে লিখেছেন,পটিয়ার সাবেক এমপি সামশুল হক চৌধুরীর বাড়ি মাটি থেকে বিশাল দৃষ্টিনন্দন বাড়ি হয়েছে। বড় অংকের টাকা পয়সার মালিক হয়েছেন।কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কপালে একটি অফিস জোটেনি।

উপজেলা যুবলীগের সদস্য সাইফুল ইসলাম সাইফু বলেন,“দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি স্থায়ী কার্যালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সভা-সমাবেশ, সাংগঠনিক বৈঠক, কর্মী সমন্বয় সবকিছুতেই একটি নির্দিষ্ট জায়গা দরকার। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় অফিসগুলো খোলার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু পটিয়ায় স্থায়ী দলীয় কোন অফিস না থাকায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.