দুর্ঘটনা ও মৃত্যু বেড়েছে, পথে পথে চাঁদা দিয়ে চলছে অবৈধ যান

চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে -

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

 

দেশের সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে থ্রি-হুইলার, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নসিমন, করিমন চলাচল একাধিকবার বন্ধ ঘোষণার পরও চট্টগ্রাম কক্সবাজারসহ ২২ মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব অবৈধ যান।

সরকারি সিদ্ধান্তের ১১বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের মহাসড়কগুলোতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক) ও মোটরচালিত রিকশা নির্বিঘ্নে চলছে।

ফলে, সড়ক, মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। সড়ক  নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের নির্লিপ্ততা এবং কার্যকর তদারকির অভাবে মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যাচ্ছে না।

তবে এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা। নিয়মিত চাঁদা দিয়েই সড়কে চলছে এসব ঝুঁকিপূর্ণ যান। নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে ২০১৫ সালের ১ আগস্ট থেকে দেশের ২২টি মহাসড়কে থ্রি-হুইলার, অটোরিকশা, অটোটেম্পো ও অযান্ত্রিক যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন তৎকালীন সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

 

এর আগে মহাসড়কে অটোরিকশা ও অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল সেই সময়ের সরকার। তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এই সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

 

প্রয়োজনে মহাসড়কে থ্রি-হুইলারের জন্য আলাদা লেন চিহ্নিত করে দেওয়া হবে। সরকারি সিদ্ধান্তের প্রথম দিকে পুলিশি তৎপরতায় মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল কমে যায়।

এ সময় সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যাও জরীপমতে প্রত্যাশিতভাবে অনেক হ্রাস পায়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বাড়তে থাকে। বর্তমানে চট্টগ্রাম কক্সবাজারের অভ্যান্তরীণ সড়ক-মহাসড়কে অবাধে চলছে নিষিদ্ধ ঘোষিত তিন চাকার যানগুলো।

মাঝে মাঝে একাধিবার কর্তৃপক্ষ মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের চেষ্টা করলেও ঘোষিত সেই সরকারি সিদ্ধান্ত মোটেও বাস্তবায়ন করা যায়নি। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে মহসড়কে ধীরগতির এসব ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন দুর্ঘটনার বড় কারণ।

চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক সব সময় অবারিত থাকা উচিত। এসব ছোট গাড়ির জন্য এই সড়কে আলাদা লেন করতে পারলে সুফল পাওয়া যাবে।

 

এদিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া হাইওয়ে থানা এলাকায়ও নিষিদ্ধ থ্রী হুইলারের ব্যাপক ছড়াছড়ি দৃশ্যমান চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে।

 

মূলত এসব নিষিদ্ধ যান দৈনিক চাঁদার ভিত্তিতে বিভিন্ন ছত্রছায়ায় চলাচল করে বলে সূত্র দৈনিক সকালের সময়কে নিশ্চিত করেন।

 

এদিকে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া হাইওয়ে থানা এলাকায় নিষিদ্ধ যান চলাচলের বিষয়ে অকপটে স্বীকার করেন পটিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক মো:হারুন।

তিনি বলেন এসব যান নিয়মিত চলাচল করলেও প্রতিনিয়ত আমাদের অভিযান চলমান।আমি আসছি অল্পদিন হলো,এর মধ্যে ৪৩টির ও বেশী মামলা দিয়েছি।

সড়কে এক্সিডেন্টের বিষয়ে তিনি বলেন,এখানে নিষিদ্ধ যান চলাচলের পাশাপাশি রাস্তার প্রসস্থের সীমাবদ্ধতাও আছে তবুও আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছি।

এদিকে চিরিংগা হাইওয়ে থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন,সড়কে নিষিদ্ধ যানের বিষয়ে আমার অবস্থান অত্যান্ত কঠোর আমার এলাকা হচ্ছে কক্সবাজার জেলা গেইট থেকে শুরু হয়ে ফাঁসিয়াখালী ঝরঝরি ব্রিজ পর্যন্ত, প্রায় ২৯ কিঃমিঃ।

আমি গত ১বছরে নিষিদ্ধ যানের অভিযান ও সড়ক দূর্ঘটনাসহ সব মিলে প্রায় ৩০০০ মামলা করেছি।
শুধু দূর্ঘটনা সংক্রান্ত মামলা আছে হাজারের অধিক এবং মামলামতে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত আছে ৫১জন নিহত ১২জন নিয়মিত মামলা আছে ১২টির মতো।

তিনি আরো বলেন,আমাদের আশা রাস্তাটি বড় হোক দূর্ঘটনা এড়িয়ে চলুক,রাস্তার কারণেই এই সড়কে প্রতিদিন ঝরছে তরতাজা প্রাণ যেটা চরম সত্য।এদিকে প্রতিবেদককে একাধিক ড্রাইভার জানিয়েছেন ওসি আরিফ আসার পর থেকেই মহাসড়কে বেশী অভিযান চলে।

 

এদিকে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের মালুম ঘাট হাইওয়ে থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, তার দায়িত্বাধীন এলাকা শুরু ফাঁসিয়াখালী উত্তর থেকে দক্ষিণ ঈদগাহ পর্যন্ত,তার ১বছরের মধ্যে মালুম ঘাট হাইওয়ে থানা এলাকায় ঝরছে ২১টি প্রাণ,আহত হয়েছে ১৫জন।

আর গত ১বছরের সড়ক দূর্ঘটনায় গাড়ী জব্দ হয়েছে ২৮টির মত। তিনিও নিষিদ্ধ যানের বিরুদ্ধে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছেন এবং অভিযানের বিপরীতে মামলাও দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে রামু হাইওয়ে থানার ওসি মো:নাসির উদদীন বলেন তিনি গত ১বছরে মহাসড়কে শৃংখলা ফিরাতে অনেক গুলো মামলা দিয়েছেন, এবং রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন। তার দায়িত্বাধীন মহাসড়কের অংশ হচ্ছে ঈদগাহ থেকে মরিচ্যা ব্রিজ পর্যন্ত মোট ৫৩কিলোমিটার। ৩২টি গাড়ী জব্দের মামলা এবং ২২টি মহাসড়কে দূর্ঘটনায় নিহতের মামলা হয়।
মহাসড়কের ঘটনায় আহতের মামলা হয়েছে ৩০টি।

এদিকে রামু এলাকা ও মালুম ঘাট এলাকা এবং চকরিয়া চিরিংগা এলাকার হাইওয়ে গুলোতে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে গেলেও নিষিদ্ধ যান আসলে প্রায় সময় দেখা যায়  বলে মন্তব্য করেন রামুর জসিম উদদীন।

তিনি আরো বলেন অভিযানের পাশাপাশি সরকার থেকে সচেতন মূলক প্রকল্প হাতে নিতে হবে।

 

এদিকে জানা যায়, রাস্তার জন্যই যে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে সড়ক দূর্ঘটনা হচ্ছে তা নয়,সিংহভাগ সড়ক দূর্ঘটনা হচ্ছে নিষিদ্ধ যানের বেপরোয়া চলাচলের কারণে।

এদিকে কেরানী হাট পুলিশ বক্সের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, তার আমলে সবমিলিয়ে সড়কের নিরাপত্তার স্বার্থে ৩হাজারেরও অধিক মামলা দিয়েছেন।এবং তিনি প্রতিদিন চেষ্টা চালিয়ে যান তার দায়িত্ব এলাকায় যেন সবকিছু ঠিকঠাক থাকে।

তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন নুরে আলম সিদ্দিকী দায়িত্ব নেয়ার পরে কেরানী হাট মোড়ে আগের সেই যানজটের অবস্থা নেই এখন মোটামুটি স্বাভাবিক।

 

চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে যেভাবে চলে অবৈধ যান:

নগরীর নিকটবর্তী কর্ণফুলী উপজেলার আরাকান মহাসড়ক ও অলিগলিতে সিএনজি এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলছে। জানা যায়, ট্রাফিক পুলিশ ও কথিত মালিক সমিতির টোকেনেই চলছে এসব সিএনজি ও তিন চাকার নিষিদ্ধ যানবাহন।

সচেতন মহলের দাবি, কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে চলছে এসব যান হতে চাঁদাবাজি। যেন টোকেনই ভরসা আবার টোকেনে ব্যবসা। অপরদিকে, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করেই ট্রাফিক পুলিশের টিআই ও সার্জেন্টসহ কিছু নাম সর্বস্ব মালিক সমিতির যোগসাজসে টোকেনে আদায় করছে লাখ লাখ টাকা।

এ যেন কাঁচা টাকার রমরমা বাণিজ্য। যে টাকার একটি বড় অংশ স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের পকেটেও যাচ্ছে বলে প্রচার রয়েছে। তথ্যমতে, কর্ণফুলী উপজেলার প্রধান সড়কগুলোতে অবৈধ কিছু সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত টমটম এবং তিন চাকার রিকশা চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা।

মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন মানুষ ও শিশুদের নাম। আরাকান মহাসড়কের মইজ্জ্যারটেক ও শিকলবাহা ক্রসিং গুলোতে মেট্রোপুলিশ ও হাইওয়ে ট্রাফিক পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান করলেও স্থানীয়রা বলছে তা নামমাত্র আইওয়াশ।

ধরা ছোয়ার বাহিরে এসব যানবাহন বরং সমিতি ও তাদের নির্দিষ্ট টোকনের মাধ্যমে চলছে অবাধে সিএনজি অটোরিকশাসহ নিষিদ্ধ যান।

সূত্র মতে, গত বছরের ডিসেম্বরে সিএনজি হতে প্রতিদিন ১০০ টাকা আদায় করলেও নতুন বছরে বাড়ছে চাঁদার পরিমাণ। মইজ্জ্যারটেকে পুলিশের নামে এক ব্যক্তি এখন প্রতিদিন ১২০ থেকে ২০০ টাকা করে প্রতি সিএনজি হতে আদায় করছে এমনটি অভিযোগ স্বয়ং সিএনজি ড্রাইভারদের।

অন্যদিকে নিষিদ্ধ টমটম ও তিন চাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা হতে কিছুদিন কুদ্দুস নামে আরেক ব্যক্তি মাসিক হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করেন এবং সমিতিগুলোর পক্ষ থেকে বিশেষ স্টিকার লাগিয়ে কয়েক হাজার সিএনজি হতে লাখ লাখ টাকা হজম করারও অভিযোগ উঠেছে।

 

তবে, টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে ট্রাফিক পুলিশ সূত্র বলছে, মহাসড়কে কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না তিন চাকার যান।’ তবে মাঠের তথ্যের সঙ্গে কথায় আর কাজে আসমান-জমিন ফারাক তাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, এই সড়কে চলা প্রায় সবগুলো সিএনজি অটোরিকশার সামনের গ্লাসে বিভিন্ন রংয়ের কতগুলো বিশেষ স্টিকার লাগানো। অনেকের মতে যা ৩০০০ থেকে ৪০০০ হাজার টাকার বিনিময়ে এই স্টিকারগুলো কেনা হয়েছে শ্রমিক সংগঠনের কাছ থেকে।

শ্রমিক সংগঠন ও সমিতিগুলো মাসে মাসে একেক রংয়ের এসব স্টিকার কোথায় পায় জানতে চাইলে ড্রাইভাররা বলেন, ট্রাফিক পুলিশই মূলত এসব স্টিকার সমিতিকে দেন। এই টোকেন থাকা মানে মহাসড়কে চলার বৈধতা। আর কোনো বৈধ কাগজপত্র লাগে না তাদের।

ট্রাফিক পুলিশ গাড়ির লাইসেন্স চেক করেন কিনা জানতে চাইলে সিএনজি ড্রাইভার বলেন, ‘গাড়ি চালাচ্ছি গত ৪ বছর হবে কখনো কাগজ দেখতে চাইনি। তবে প্রতি মাসে মাসে টোকেন ঠিকই চেক করেন।’

উপজেলার মইজ্জ্যারটেকের সালাম ড্রাইভার বলেন, ‘হাইওয়ে রোডে চলার জন্য টোকেন আছে। এই টোকেন আমরা টাকা দিয়ে প্রতি মাসে নেই। টোকেনের টাকা দেওয়া হয় আমাদের সমিতির লোকের কাছে। এরা ট্রাফিক পুলিশ হতে টোকেন এনে তাদের গাড়িতে লাগিয়ে দেয় বলে জানান।’

সচেতন মহলের দাবি, স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বছরের পর বছর টোকেন সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। আর অভিযোগ উঠেছে, এ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন ট্রাফিক পুলিশেরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট হর্তাকর্তাগণ।

নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্বেও এসব বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এসব বিষয়ে কিছু বলতে অপরাগতা পোষণ করেন। কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনেরও এ ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এখনো পর্যন্ত দেখা যায়নি।

বছরের পর বছর ধরে এসব অবৈধ যানবাহন চলাচল করলেও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ও পুলিশ প্রশাসন যেন দেখেও দেখছে না।

সে সুযোগে রমরমা টোকেন বাণিজ্যে মেতে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট চক্র। ফলে হাতিয়ে নিচ্ছে তারা বছরে অর্ধ কোটি টাকারও বেশি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিআরটিএ কিংবা প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া এসব টোকেন বিতরণ করছে উপজেলা ভিত্তিক বিভিন্ন সিএনজি-অটোরিকশা মালিক সংগঠন ও শ্রমিক সমিতির নেতাকর্মীরা। এ থেকে মোটা অঙ্কের মাসিক মাসোহারা পায় বিআরটিএ’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এমনটি অভিযোগ সচেতন মহলেরও।

এসব অবৈধ সিএনজি চলাচলে প্রশাসনের ঝামেলা এড়াতে মালিক ও চালকরা প্রশাসনের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করে স্থানীয় কিছু নেতাদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হারে মাসোহারা দিয়ে রাস্তায় চলাচলের বৈধতা কিংবা রুট পারমিট নেন। সেজন্য মাসে সিএনজি প্রতি টাকা দিয়ে টোকেন নিতে হয়।

প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে আরও ওঠে আসে এসব যানবাহনের টোকেন বাণিজ্যের নেতৃত্বে আছেন চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটো টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং চট্ট-১৪৪১, কর্ণফুলী থানা অটোরিকশা অটো টেম্পো ও চার স্ট্রোক শ্রমিক কল্যাণ বহুমুখী সমবায় মালিক সমিতি লিঃ রেজি নং-৮৮৮২, কাঞ্চনা ফুলতলা ডলুব্রিজ অটোরিকশা ও সিএনজি মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ রেজি নং-১০৬১৭, গ্রাম অটোরিকশা অটো টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং-চট্ট ১৪৪১, ডলুব্রিজ অটোরিকশা সিএনজি মালিক সমবায় সমিতি রেজি নং ৮০১৫ (১৯৯) ও অঞ্চলভিত্তিক কিছু নেতা।

তবে নেপথ্যে থেকে কারা এসব সমিতির নেতৃত্বে দিচ্ছেন তাদের ব্যাপারে ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ সাধারণ ড্রাইভাররা।

কর্ণফুলীতে মাসিক ‘টোকেন’-এ চলছে কয়েক হাজার সিএনজি। টোকেনের মাধ্যমে এসব অবৈধ অটোরিকশা ও চালককে বৈধতা দিচ্ছেন কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্য ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। বিভিন্ন সড়কে চলছে অবৈধ অটোরিকশা।

এ ছাড়াও যারা কর্ণফুলী ব্যতিত অন্য উপজেলা হতে মইজ্জ্যারটেক মোড়ে যাত্রী নিয়ে আসে। তাদের প্রতিটি সিএনজি হতে ‘চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটোটেম্পো শ্রমিক ইউনিয়ন’ নামক সমিতি রশিদ কেটে চাঁদা আদায় করে প্রতি সিএনজি ৪০ টাকা। আর কাটা রশিদে লেখা থাকে ২০ টাকা।

সিএনজি ড্রাইভারদের দেওয়া তথ্যমতে, কর্ণফুলীতে ‘চট্টগ্রাম অটোরিকশা অটোটেম্পো শ্রমিক ইউনিয়ন’-এর অধীনে ১০০০’র বেশি সিএনজি ও কর্ণফুলী থানা অটোরিকশা অটোটেম্পো ও চার স্ট্রোক শ্রমিক কল্যাণ বহুমুখী সমবায় মালিক সমিতি লিঃ-এর রয়েছে ১ হাজার ২০০’র মতো সদস্য।

তাহলে আনুমানিক হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ২৫হাজার টাকা, মাসে ৬ লাখের উপরে এবং বছরে ৭২ লাখ টাকা শুধু সিএনজি ও অটোরিকশা থেকেই আদায় করা হচ্ছে। এ টাকা যাচ্ছে কার পকেটে? এ চাঁদাবাজি রুখবে কে? সেটাই সাধারণ জনগণের প্রশ্ন!

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.