বিলাইছড়িতে যোগাযোগ ও কৃষি উন্নয়নে রাংখ্যং নদী ড্রেসিং ও ৭টি নালা খননের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে রাংখ্যং নদী ড্রেসিং এবং অন্তত ৭টি নালা খননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হবে, নৌ-যোগাযোগ সচল হবে এবং বিপুল পরিমাণ জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় খাল-নালা খনন, জলাধার পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিলাইছড়িতে এ কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তা স্থানীয় অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফারুয়া ইউনিয়নের এগুজ্যাছড়ি এলাকায় খালের পাশে প্রায় ১ কিলোমিটার নালা খনন জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সেখানে পানি জমে থাকায় নিয়মিত চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। নালা খনন করা হলে ঝাংবিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হয়ে প্রায় ৪০-৫০ একর জমি ধানচাষের উপযোগী হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। তবে বর্ষা মৌসুমে পলি জমে খাল-নালা ভরাট হয়ে যাওয়াও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

এছাড়া শুকনো মৌসুমে নৌ-চলাচল সচল রাখতে এস-বাঁক (ঝ-নবহফ) এলাকা থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ কিলোমিটার খাল খননের দাবি উঠেছে। বর্তমানে উপজেলা সদর থেকে ফারুয়া ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার নৌপথ শুকনো মৌসুমে অচল হয়ে পড়ে, ফলে যাত্রী ও বোটচালকদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

অন্যদিকে রাইংখ্যং খালের বাঘিমং এলাকা থেকে কুতুবদিয়া অংশে প্রায় ৪০০ মিটার খনন কাজ করা হলে বর্ষায় স্রোতের মাধ্যমে পলি সঞ্চিত হয়ে প্রায় ৫০০ একর জমি চাষযোগ্য হয়ে উঠতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। একইভাবে রাইংখ্যং নদী থেকে মাছকাবা ছড়া বিল পর্যন্ত প্রায় ১২০০ ফুট নালা খনন করা গেলে আরও প্রায় ২০০ একর জমি আবাদযোগ্য হতে পারে।

এছাড়াও আমতলী থেকে রাম দেওয়ানের ভিটা পর্যন্ত, কিলাছড়ি মুখ থেকে ভাবনা কেন্দ্র এলাকা এবং কেংড়াছড়ি সংযোগে আরও কয়েকটি স্থানে নালা খননের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ প্রসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে দেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু হয়, যার মাধ্যমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সেই মডেল অনুসরণ করে বিলাইছড়িতে নতুন করে খাল-নালা খনন উদ্যোগ নেওয়া হলে এলাকাটি কৃষি, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিকভাবে আরও এগিয়ে যেতে পারে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.