নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধ করাত কলে নির্বিচারে উজাড় হচ্ছে বনের কচি-কাঁচন গাছ, বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। রাতে কিংবা দিনে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে করাতকলে চলছে কাঠ চেরাই। অনুমোদনহীন এসব করাত কল স্থাপন করা হয়েছে মূল সড়কের পাশে, সীমানা ঘেঁষে। এসব মিলের নেই কোনো সরকারি অনুমোদন। জানা গেছে, রামগড়ে ১৯টি করাতকলের মধ্যে বেশিরভাগই চলছে অবৈধভাবে।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য অঞ্চলে চার শ্রেণির বন রয়েছে। সেগুলো হলো, সংরক্ষিত বন, রক্ষিত বন, ব্যক্তিমালিকাধীন বন ও অশ্রেণিভুক্ত বন৷ তবে বেশির ভাগই অশ্রেণিভুক্ত বনের আওতাভুক্ত।
জানা যায়, বিগত কয়েক দশকে সংরক্ষিত বন ও অশ্রেণিভুক্ত বনাঞ্চল ব্যাপক হারে উজাড় হয়েছে। বনখেকোদের দৌরাত্ম্যে এবং বনবিভাগের র নির্বিচারে কাটা হচ্ছে এসব বনের গাছ । বিশেষ করে পাহাড় থেকে পরিবহণ করে এসব কাঠ বিভিন্ন উপজেলায় পোঁড়াতে এবং স’মিল গুলোতে নেয়া হয় পক্রিয়াজাত করতে। রাতের আঁধারে ট্রাক যোগে এসব কাঠ পাচার করা হয় ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই হারিয়ে যাবে প্রাকৃতিক বন অভিমত অভিজ্ঞজনদের। কোন এক সময় প্রতি মৌসুমে একটি ইট ভাটায় গড়ে, ১লক্ষ মন কাঠ পুড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব কাঠ জোগাড় হয়েছে আশপাশের বনাঞ্চল থেকেই। যার ফলে উজাড় হয়ে যাচ্ছে পাহাড়ি অঞ্চল, বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ছে পাহাড়।
বন ও পরিবেশ আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপনের কোনো সুযোগ বা নিয়ম নেয়। তবে এসবের তোয়াক্কা করেন না বনখেকোরা। বনাঞ্চল ঘিরেই অবৈধভাবে করাতকল স্থাপন করে দিনে-রাতে কাঁটা হচ্ছে এসব বনের কাঠ।
করাতকল মিস্ত্রিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি করাতকলে দৈনিক অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ ঘনফুট পর্যন্ত কাঠ চিরানো হয়। সেই হিসেবে খাগড়াছড়ি জেলার করাতকলগুলোতে সপ্তাহিক গড়ে অন্তত সাড়ে ২২ হাজার ঘনফুট কাঠ চেরানো হয়। বছর শেষে যার পরিমাণ ৮০ লাখ ঘনফুট ছাড়িয়ে যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রামগড় বাজার, তৈছালা পাড়া, নজিরটিলা, পাতাছড়া, নাকাপা, সোনাইপুল, বলিপাড়া, খাগড়াবিল, কালাডেবা এলাকায় গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ করাত কল। যার ফলে উজাড় হচ্ছে প্রাকৃতিক বন, জানা গেছে এসব কার্যক্রম চালাতে খলিলকে দেয়া হয় মোটা অংকের টাকা।
এসব স’মিলে বনাঞ্চলের গাছ চেরায় ও সামাজিক বনায়নের গাছ কর্তন করে যাচ্ছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছেন
রামগড় বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা খলিলুর রহমান জানান, অবৈধ করাতকল গুলোর তালিকা করা হচ্ছে। তবে ইতিমধ্যে অনেকেই করাতকলের লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করেছে। এছাড়াও বনের কাঠ পোড়ানো হলে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে এখন পর্যন্ত আমরা কোন অভিযান পরিচালনা করিনি।