দুই ভুয়া পক্ষের বিরুদ্ধে ‘চট্টগ্রাম সংবাদে’র স্ট্যাটাস, আটক কথিত কবিরাজ ও কথিত সাংবাদিক

স্থানীয় সাংবাদিকরা ভূয়া কবিরাজের বিষয়টি গোপন রেখে ভুয়া সাংবাদিক নিয়ে নিউজও করেছিল-

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতকানিয়া 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় স্বামীকে ফিরিয়ে আনার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে সজল কান্তি দাশ (৬৫) নামে এক কথিত কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সময়ে ওই কবিরাজের বাড়িতে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি করতে গিয়ে অন্য উপজেলার তিন যুবককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নে পৃথক দুটি মামলায় এই চারজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পটিয়া উপজেলার লাউয়ের খীল গ্রামের এক নারী (৩২) তার স্বামীকে ফিরিয়ে আনার তদবির করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের মাস্টার পাড়া বৈদ্যবাড়ি এলাকার কথিত কবিরাজ সজল কান্তি দাশের কাছে যান। অভিযোগে বলা হয়েছে, সজল কান্তি দাশ ওই নারীকে প্রলোভন দেখিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন এবং একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

 

ধর্ষণের ঘটনার মাত্র ১০-১৫ মিনিট পরই ওই কবিরাজের বাড়িতে ঘটে অন্য এক নাটকীয় ঘটনা। কবিরাজের স্ত্রী ঝর্ণা রানী দাশের দায়ের করা মামলার তথ্যমতে, বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলার তিন যুবক জোরপূর্বক তাদের ঘরে প্রবেশ করেন। তারা নিজেদের অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সজল দাশকে ভয়ভীতি দেখান এবং ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার বিনিময়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় ঝর্ণা রানীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ওই তিনজনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।

 

গ্রেপ্তারকৃত ভুয়া সাংবাদিকরা হলেন— বাঁশখালী উপজেলার মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৩), নুরুল আবছার (৪২) এবং আনোয়ারা উপজেলার মো. জয়নাল উদ্দিন (৩১)।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান, একই দিনে দুটি পৃথক অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের অভিযোগে কথিত কবিরাজ এবং সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুই মামলার আসামিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

এদিকে ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম সংবাদের অনলাইন সংস্করণে ভূয়া সাংবাদিক আর ভূয়া কবিরাজ আর ভূয়া সাংবাদিকদের দুই গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার  পোষ্ট দিয়েছিলো। উক্ত স্ট্যাটাসের পরই দুই পক্ষ ব্যাপক আলোচনায় আসে।

এদিকে দুই গ্রুপকে অভিযুক্ত করে ঘটনার ৩০মিনিটের ভেতর চট্টগ্রাম সংবাদ খবর প্রকাশ করলে ভুয়া কবিরাজের জয়দেব নন্দী নামে এক আত্বীয় চট্টগ্রাম সংবাদের পোষ্টের নিচে বিদ্রুপ মন্তব্যও করেছিল।

তবে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম সংবাদের অনুসন্ধানী খবর সত্য বলে বিবেচিত হয় জনমনে।

 

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.