নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি আর নয়, চাই নিরাপদ ভবিষ্যৎ” স্লোগান সামনে রেখে চট্টগ্রামে ‘জলবায়ু ধর্মঘট’ করেছেন চট্টগ্রামের তরুণেরা। নগরীর সিআরবিতে ২২ টি যুব ও পরিবেশবাদী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে জলবায়ু ধর্মঘট কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
নোবডি টু সামবডি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফয়েজ সাদ’র সঞ্চালনায় জলবায়ু ধর্মঘটে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ’র আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি, হালদা গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া, এসডিজি ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি নোমান উল্লাহ বাহার, পরিবেশবাদী সংগঠন ১ টাকায় বৃক্ষরোপণ’র সভাপতি শেখ আব্দুল্লাহ্ ইয়াছিন, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ারের ডিভিশনাল কো-অর্ডিনেটর মুহিবুল হাসান রাফি , রাইজ আপের সদস্য সালমান হায়দার, ব্ল্যাক টু ব্লু সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ নিফাজ, বি ফর বাংলাদেশের রাফসান,আলমগীর খান মুন্না,রাকিবুল ইসলাম,মোহাম্মদ আলিফ,তাহসিন, রাফসান প্রমুখ।
সেসময় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় শহর হিসেবে চট্টগ্রাম আজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস, বায়ুদূষণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং শিল্প দূষণ নগরবাসীর জীবন ও ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে।
সমাবেশ থেকে বক্তারা চট্টগ্রামের পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষায় দাবি করেন- সিআরবিতে পাহাড় ও গাছ কেটে হাসপাতাল বা পরিবেশবিনাশী স্থাপনা নির্মাণ পরিকল্পনা বাতিল, সিআরবিকে সংরক্ষিত সবুজ অঞ্চল ঘোষণা,অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধ,চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল ও জলাধার দখলমুক্তকরণ,শিল্প দূষণ ও কেমিক্যাল বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ,কর্ণফুলী নদীসহ নদী ও খাল রক্ষা,প্লাস্টিক দূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ব্যবস্থা,ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ,ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কার্যক্রম,পরিবেশ অপরাধে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতকরণ
বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু সংকট ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, এটি বর্তমান বাস্তবতা। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামী প্রজন্ম একটি ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।
শেষে “জলবায়ু ন্যায়বিচার, এখানেই এখনই” এবং “জীবাশ্ম জ্বালানি নয়, চাই টেকসই ভবিষ্যৎ” স্লোগানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সুইডিশ তরুণ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ এককভাবে স্কুল স্ট্রাইক ফর ক্লাইমেট কর্মসূচি শুরু করার মাধ্যমে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা আজ বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে তরুণদের অন্যতম বৃহৎ জলবায়ু আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে চট্টগ্রামে এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।