যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২

 

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের মেধা কচ্ছপিয়া সংলগ্ন পাহাড়ি ঢালু রাস্তায় দুই বাসের মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে বাস চালক ও এক শিশু নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ প্রায় ৪০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (৮ জুন) দুপুর ২টা ৩০টার মিনিটের সময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কলখুটাখালী ইউনিয়নের মেধা কচ্ছপিয়া পাহাড়ি ঢালু জায়গায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।​নিহতরা হলেন- দুর্ঘটনা কবলিত বাসের চালক আলম, তার বাড়ি টেকনাফ এবং ৮মাস বয়সী এক শিশু। ​প্রত্যক্ষদর্শী সাঈদ বলেন, দুপুরে চকরিয়ার খুটাখালী মেধা কচ্ছপিয়া এলাকার একটি পাহাড়ি ঢালু ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার এভারগ্রিন পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী এএস আলম নামে একটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বাসেরই সম্মুখভাগ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই লোকাল বাসের চালক আলম ও এক শিশু মারা যায়। লোকাল বাসের ছাদ ভেঙে অনেক দূরে পড়ে যায়। ​দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় বাসিন্দা, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে আহতদের নিকটবর্তী চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিস্টান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মালুম ঘাট হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে ডুলাহাজারার উত্তরপাড়ার আয়েশ নূর (১ বছর ৪ মাস) ও আলীকদম বেগম (৩০) নামে এক নারীসহ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ​মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনা কবলিত বাস দুটি জব্দ করে। পাহাড়ি ঢালু ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে অতিরিক্ত গতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত এভারগ্রিন বাসের যাত্রী মোহাম্মদ সাঈদ বলেন, আমার মা নূর আইসাকে নিয়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে হার্টের চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলাম। সঙ্গে আমার বোন ফারজানা ও মামা ফয়েজ আহমদও ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আমরা সবাই আহত হয়ে এখন নিজেরাই রোগীতে পরিণত হয়েছি। অপরদিকে, এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা দিয়ে চকরিয়ার কোরক বিদ্যাপীঠ স্কুলে থেকে জান্নাতুল মাওয়া তার বাবা ফরিদুল আলমের সঙ্গে লোকাল বাসে ককৃসবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। খুটাখালীর মেধাকষ্টপিয়াএলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ে দুজনই আহত হন। এতে জান্নাতুল মাওয়ার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার বাবা ফরিদুল আলমের হাত ও পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মালুম ঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আরেকজন রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.