বন বিভাগে পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগ, ৩৫ বছরের ফরেস্ট গার্ড  চাকরিতেও প্রমোশন পাননি অনেকে

ডেস্ক রিপোর্ট,চট্টগ্রাম 

 

খুলনা বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ নতুন করে সামনে এসেছে। বিভাগের একাধিক ফরেস্ট গার্ড অভিযোগ করেছেন, নিয়ম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা ও গ্রেডেশন তালিকা অনুসরণ না করে প্রভাব, তদবির এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ ৩০ থেকে ৩৫ বছর চাকরি করেও অনেক কর্মী আজও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফরেস্ট গার্ড বলেন, “আমি প্রায় ৩৫ বছর ধরে বন বিভাগে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। অবসরের দ্বারপ্রান্তে এসেও একটি পদোন্নতি পেলাম না। অথচ আমার পরে চাকরিতে যোগ দেওয়া অনেকেই একাধিক ধাপে পদোন্নতি পেয়েছেন। আমরা মনে করি, স্বচ্ছতার সঙ্গে পদোন্নতি হলে এমন বৈষম্য হতো না।”
আরেকজন বঞ্চিত কর্মী অভিযোগ করেন, “গ্রেডেশন তালিকা অনুসরণ না করেই পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। কাদের কীভাবে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছতা নেই। মাঠপর্যায়ে প্রচলিত ধারণা হলো, টাকা ও তদবির ছাড়া পদোন্নতি পাওয়া কঠিন। আমরা চাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।”
তৃতীয় এক ফরেস্ট গার্ড বলেন, “আমরা দিন-রাত বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় কাজ করি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেও ন্যায্য মূল্যায়ন পাচ্ছি না। পদোন্নতির ক্ষেত্রে যদি জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার পরিবর্তে অন্য বিষয় প্রাধান্য পায়, তাহলে কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়বে।”
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গ্রেডেশন তালিকা যথাযথভাবে প্রকাশ ও অনুসরণ করা হচ্ছে না। ফলে প্রকৃত জ্যেষ্ঠ কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং জুনিয়র কর্মকর্তারা পদোন্নতি পাচ্ছেন। এতে বিভাগের অভ্যন্তরে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি বহুদিনের। কর্মীদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও দৃশ্যমান কোনো সমাধান হয়নি।
এ বিষয়ে খুলনা বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে, সুশাসন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতি অবশ্যই বিধিমালা, জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। এ ধরনের অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি।
বন বিভাগের বঞ্চিত কর্মীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, গ্রেডেশন তালিকা প্রকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উঠে এলে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.