চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের স্টাফ আনোয়ার, মাসোহারা নেন প্রকাশ্য বুক উঁচু করেই
অভিযুক্ত আনোয়ার ডিএফও হাসানের বদান্যতায় একই বিটে প্রায় ৫ বছর-
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় বন বিভাগের মগনামা বিটে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত স্টাফ আনোয়ারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও মাসোহারা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বনজ সম্পদ পাচার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মাছের ঘের থেকেও নিয়মিত মাসোহারা আদায় করেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পেকুয়া থেকে কুতুবদিয়ায় গাছ পাচারের সঙ্গে জড়িত কথিত লাইনম্যান কাসেমের কাছ থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৩২ হাজার টাকা আদায় করেন আনোয়ার। অভিযোগ রয়েছে, পার্বত্য অঞ্চল থেকে পাচার হয়ে আসা সংরক্ষিত ‘মাদার ট্রি’ গর্জন গাছ রাতের অন্ধকারে কুতুবদিয়ায় পাচার করা হয়।
এছাড়া, আরব শাহ বাজার এলাকা থেকে পরিচালিত আরেকটি পাচারকারী চক্রের সদস্য ও লাইনম্যান সালাউদ্দিনের কাছ থেকেও কুতুবদিয়ায় গাছ পাচারের সুযোগ দিতে মাসিক ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেকুয়া উপজেলায় বর্তমানে মোট ১৪টি স-মিল রয়েছে। এসব স-মিল থেকেও মাসিক প্রায় ১৪ হাজার টাকা করে আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার করিয়ারদিয়া এলাকার মাছের ঘের থেকেও প্রতি ঘের থেকে ৫ হাজার টাকা করে মাসোহারা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আনোয়ারের এই চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। মগনামা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা উনাজিমউদ্দীন বলেন,বৈধ-অবৈধ সবকিছুতেই সে চাঁদা দাবি করে। মগনামাতে যতগুলো গর্জন কাঠ দিয়ে ফিসিং বোট তৈরি হয় প্রতিটি বোটের মালিক থেকে ১০-১৫ হাজার টাকা করে নেন বড় বড় কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার কথা বলে। টাকা না দিলে বড় কর্মকর্তা দিয়ে জব্দ করার ভয়ভীতি দেখায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার সাথে মুঠোফোন যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মোবাইল ফোন রিসিভ করেন নি।
মগনামা রেঞ্জের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি রেঞ্জার আব্দু রাজ্জাক কে বিষয়টি জানালে,তিনি জানান আমি মাত্র ৯দিন হলো এই রেঞ্জের দায়িত্ব নিয়েছি।এই বিষয়ে খোজ খবর নিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেলে উর্ধতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানাবো।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।