প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফরেস্টার জয়ন্ত কুমার রায়
অথচ তিনি বর্তমানে খ্যায়াচ্যলং রেঞ্জের দায়িত্বেও নেই-
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকার প্রিন্ট সংস্করণে বান্দরবান বন বিভাগের আওতাধীন খেয়াচ্যলং রেঞ্জ নিয়ে অসত্য তথ্য নির্ভর খবর পরিবেশন করা হলে খেয়াচ্যলং রেঞ্জের সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় উক্ত সংবাদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে একটি প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন।
ফরেস্টার জয়ন্ত কুমার রায় সাক্ষরিত গতকাল বুধবার (১৫ই জানুয়ারি) দৈনিক পত্রিকাটির সংবাদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবাদে তিনি বলেন চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক সাঙ্গু গত ১৫ই জুলাই ‘বান্দরবানে খেয়াচ্যলং রেঞ্জে অনিয়মের মাধ্যমে এক বছরে ৩৮টি জোত পারমিট ইস্যু” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। উক্ত সংবাদটি জয়ন্ত কুমার রায় এর দৃষ্টি গোচর হয় বলে প্রতিবাদে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি আরো বলেন -দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বান্দরবান বন বিভাগের খ্যায়াচলং রেঞ্জ নিয়ে এধরণের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ নিম্নস্বাক্ষরকারীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরকে সামাজিকভাবে হেয় করার অপপ্রয়াস মাত্র। অসত্য তথ্য সম্বলিত সংবাদ প্রতিবেদন পাঠে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূরীকরণের লক্ষ্যে জানানো যাচ্ছে যে, বান্দরবান বন বিভাগের আওতাধীন রেঞ্জসমূহ ও টহল দলের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিপি’র চেক পোস্টে সার্বক্ষণিক নজরদারী, চেকিং ও তদারকির কার্যক্রম চলমান থাকা স্বত্ত্বেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিম্নস্বাক্ষরকারীর ছবি সম্বলিত অসত্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ উপস্থাপন করে বান্দরবান বন বিভাগের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।আমি গত ১২/০৫/২০২৬ তারিখে খ্যায়াচলং রেঞ্জ হতে অব্যাহতি পেয়ে বর্তমানে টংকাবতী রেঞ্জে ফরেস্টার হিসেবে যোগদান করে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে সরকারি কাজে আমার সততা ও নিষ্ঠার সাথে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছি। আমি (খ্যায়াচলং রেঞ্জে) কর্মকালিন খ্যায়াচলং রেঞ্জের অনুকুলে ৩৮টি জোত পারমিট ইস্যুর বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। উল্লেখ্য যে, ভূমিমালিক গণের নিজস্ব ভূমিতে সৃজিত কর্তণযোগ্য বাগানের গাছ কর্তণের নিমিত্ত নির্ধারিত ফরমে আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের দপ্তর হতে প্রযোজনীয় কার্যক্রম শেষে ‘এ’ ফরম মূলে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে বন বিভাগ বিধি মোতাবেক পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে। এখানে বন বিভাগের কোন অফিস সহকারীর সাথে যোগসাজসের কোন সুযোগ নেই।
তাছাড়া, বান্দরবান পার্বত্য জেলার ভূমি মালিকগণের নিজস্ব ভূমিতে সৃজিত কর্তণযোগ্য বাগানের গাছ কর্তণের নিমিত্ত Chittagong Hill Tract Forest Transit Rules, 1973 এর বিধানাবলী অনুসরণ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জোতভূমির গাছ কর্তন ও পরিবহণের অনুমতি বন বিভাগ ফ্রি- লাইসেন্স মূলে সম্পূর্ণ ফ্রি-তে দিয়ে থাকে। প্রাকৃতিক বন বা কোন সংরক্ষিত বনাঞ্চল হতে গাছ কর্তন, আহরণ বা পরিবহণের কোন প্রকার সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য যে, বন কর্মচারীদের এক কর্মস্থল হতে অন্য কর্মস্থলে বদলি ও নিয়োগ একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এখানে কোন ব্যক্তি বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের সাথে বন কর্মকর্তাদের কোন আর্থিক সংশ্লীষ্ঠতা নেই। আমি এই অসত্য প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এছাড়া, পত্রিকায় অন্যান্য বিষয়ে যে অভিযোগ আনায়ন করা হয়েছে তা বাস্তবতা বিবর্জিত। প্রকৃতপক্ষে, প্রকাশিত প্রতিবেদনে বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ অসত্য তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন প্রকাশে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টিসহ বন বিভাগের ভাবমুর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন ও বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। আমি প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।