চট্টগ্রাম সংবাদের নিউজের জের,দখলকৃত মুক্তিযোদ্ধার মার্কেট পুনঃদখলমুক্ত করল ব্যবসায়ীরা: এলাকায় স্বস্তি, আটক ২
বাঁশখালীতে রাতের আঁধারে-
মুহাম্মদ মিজান বিন তাহের বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধভাবে রাতের আঁধারে দখল করে নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধার মার্কেটটি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনতার সহায়তায় পুনরায় দখলমুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় ও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখায় স্থানীয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। মার্কেটটি পুনরায় ফিরে পাওয়ায় এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকায় ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তি নেমে এসেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাঁশখালী থানা পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে বাঁশখালীর সাবেক এমপি এড. সুলতানুল কবির চৌধুরীর ছোট ভাই, পুঁইছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতানুল গণি চৌধুরী প্রকাশ লেদু মিয়ার ২য় তলা বিশিষ্ট মার্কেটের অফিস, দোকান ও বোডিং জোর পুর্বক দখল করে টিনের ঘেরা দিয়েছিল রশিদ আহমদ গং এর লোক জন। সে ঘটনার পর থেকে উভয় গ্রুপের মধ্যে মুখামুখি অবস্থান ও পাল্টা অবস্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করেছিল স্থানীয় এলাকাবাসীরা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়। অবশেষে আজ সোমবার দুপুরে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হকের নেতৃত্বে অভিযান ও ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে মার্কেটটি দখলমুক্ত করেন এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীদের হাতে দোকানপাট ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ ফিরিয়ে দেন। দখলমুক্ত করার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে স্বস্তি নেমে আসে। এ সময় উভয় গ্রুপের কয়েকশত লোকজন উপস্থিত ছিল। সে সময় পুঁইছড়ির ইউপি সদস্য আবুল কাশেম সহ আরো বেশ কয়জন আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা যায় । এ সময় ঘটনাস্থল থেকে খোরশেদ ও বোরহান নামে দুজনকে আটক করে পুলিশ । এ ঘটনায় মার্কেটের কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান ওরফে কাজল বাদী হয়ে ৬ জন এজাহার নামীয় এবং বেশ কিছু অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান থানা পুলিশ । এ সময় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং জনরোষ থেকে রক্ষা পেতে অবৈধ দখল কারিরা ভবনের জানালা দিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানান পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সাদ্দাম হোসেন মানিক। তিনি বলে অবৈধ দখলকারিরা পালিয়ে না গেলে বড় ধরনের একটা সংঘাত হতো ।
এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, “একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতি ও অধিকার বিজড়িত মার্কেট এভাবে গায়ের জোরে দখল করে রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায় প্রতিরোধ করেছি এবং আমাদের মার্কেট পুনরায় ফিরে পেয়েছি।” ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবৈধ দখলের সাথে জড়িত দুইজনকে আটক করে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন কে ধন্যবাদ জানান।
এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) মো. রবিউল হক বলেন, পুইছড়ির প্রেম বাজারের দোকান পাঠ দখল ও টিনের ঘেরা দেওয়ার বিষয়টি আমরা আমলে নিয়ে কোন ধরনের সংঘাত ছাড়া সমাধানের চেষ্টায় ছিলাম। তারই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশে বিশেষ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দখল উচ্ছেদ করে আগের মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রুহুল আমীন বলেন, পুঁইছুড়িতে রাতের আঁধারে বীর মুক্তিযোদ্ধার মার্কেট দখলের খবরটি পাওয়া মাত্রই উপজেলা প্রশাসন ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়েছে।
আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জবরদখল প্রতিরোধে সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণ যেভাবে সচেতন ভূমিকা রেখেছেন, তা প্রশংসনীয়। তবে কোনো অবস্থাতেই আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। প্রশাসন যেকোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে।
এ বিষয়ে ইতিমধ্যে স্থানীয় থানা পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো দখলদার বা অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”