নেত্রনালি অস্ত্রোপচার : সেই চিকিৎসকের জামিন

নেত্রনালি অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে এক পোশাককর্মীর চোখে কৃত্রিম ল্যান্স লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগে খুলশী থানার মামলায় ডা. মিজানুল হককে জামিন দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবদুল হালিমের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।মিজানুল হক লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে চাকরির পাশাপাশি নগরের বন্দরটিলায় ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগীদের চিকিৎসা দেন বলে জানা গেছে।
‘ভুল চিকিৎসার’ শিকার ১৮ বছর বয়সী হালিমা নগরের একটি সোয়েটার কারখানায় কর্মরত আছেন। বাসা নগরের দেওয়ানহাট এলাকায়। বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। হালিমার ভাই আবুল হোসেন আকাশ বাদি হয়ে গত রোববার (৯ জানুয়ারি) নগরের খুলশী থানায় চিকিৎসক মিজানুল হকের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন ডাক্তার-নার্সকে আসামি করে মামলা করেছিলেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৫ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী হালিমা নেত্রনালির সমস্যা নিয়ে লায়ন্স হাসপাতালে ডা. ফারহানা আফরোজের শরণাপন্ন হন। তিনি পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে নেত্রনালি অপারেশনের পরামর্শ দেন এবং ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মিজানুল হকের কাছে পাঠিয়ে দেন। গত ৮ জানুয়ারি অপারেশনের তারিখ ঠিক হয়। কথা ছিল ৬ হাজার টাকায় হবে অপারেশন। কিন্তু অপারেশন শেষে চিকিৎসক জানান, চোখের ল্যান্স লাগানোর কারণে খরচ পড়েছে ১৫ হাজার টাকা। রোগীর স্বজনরা ১৫ হাজার টাকা দিতে অস্বীকার করলে ১২ হাজার টাকায় দাবি করেন চিকিৎসক। এ সময় রোগী হালিমা জানান, তার নেত্রনালির অপারেশন না চোখের ল্যান্স লাগিয়েছেন চিকিৎসক। রোগীর এমন অভিযোগের পর চিকিৎসক কিছু না বলে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন। পরে হালিমার চোখে ব্যথা অনুভব ও চোখ দিয়ে পানি পড়া শুরু হলে চিকিৎসক মিজানুল হককে বারবার ডাকার পরও তিনি আর হাসপাতালে আসেননি।

ডা. মিজানুল হকের আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, ডা. মিজানুল হকের জামিনের আবেদেন করা হয়েছিল। আজ বুধবার আদালত শুনানি শেষে দুই হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.