হাটহাজারী প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম হাটহাজারীতে আয়েশা আক্তার নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহতের পরিবার। মঙ্গলবার ১২ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের পেশকারহাট ইসলামী সুন্নিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার এবং পেশকারহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। নিহত আয়েশা আক্তারের ভাই মোঃ আবুল ফয়েজের অনুমতিক্রমে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন পেশকারহাট বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি এস এম নূরুল আবছার। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পেশকার হাট এলাকার আলীমুদ্দিন হাজী বাড়ির মরহুম শাহ আলমের কনিষ্ঠ কন্যা আয়শা আকতার এর সাথে উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বংশাল এলাকার আবুল কাশেমের পুত্র মোঃ মাহফুজুল ইসলামের বিয়ে হয় ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। তাদের পারিবারিক ভাবে ইসলামি শরীয়া মোতাবেক বিবাহটি সম্পন্ন হয়েছিল। বিয়েতে বর পক্ষের আবদার অনুসারে ৪লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছিল। আয়েশার পরিবারে আর্থিক সংকট থাকায় কিছু টাকা ধারদেনা করা হয়েছিল। বিয়ের পর আয়শাকে বাপের বাড়ি থেকে নানা উপহার দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় মানসিক ভাবে নির্যাতন করা হত। ইতিমধ্যে বিগত ১০ মাস পূর্বে আয়েশা আক্তারের মোঃ আওসাপ নামে একটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহন করেন। মেয়ের পরিবার থেকে ছেলে পক্ষ তাদের দাবিকৃত উপহার না পেয়ে গত শুক্রবার ৮ এপ্রিল আয়শাকে মানসিক ভারসাম্যহীন আখ্যায়িত করে শ্বশুর বাড়ির লোকজন পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে ফাসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালাচ্ছে। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, এই ঘটনায় আয়শার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে গেলে থানার পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করেছে। পুলিশের রহস্য জনক কথার্বাতায় আয়শার পরিবার সন্তুষ্ট না হয়ে গত সোমবার নিহতের ভাই মোঃ আবুল ফয়েজ বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করন। আদালত মামলা গ্রহন করে আগামী ১৯শে এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার জন্য হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে নিদের্শনা প্রদান করেন। এসময় ‘আয়েশার মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নূরুল আবছার আরো বলেন, নিহত আয়শার ময়না তদন্তের পর তার পিতার বাড়িতে এনে দাফনকাজ সম্পন্ন করা হয়। জানাজা ও দাফনের সময় শ্বশুর বাড়ীর কোন লোকজন না আসায় তার হত্যার রহস্য আরো বেশি ঘনীভূত হয়েছে। এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে মামলার তদন্তের দায়িত্ব গোয়েন্দা সংস্থা ও পিবিআই এর উপর ন্যাস্ত করতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি। সম্মেলন শেষে আয়েশার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন ছিল কিনা জানতে চাইলে আয়েশার দাদি রেহানা বেগম (৬০) বলেন ময়নাতদন্তের পর আমি নিজহাতে গোসল দিয়েছিলাম, তখন তার শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি এবং তার হাতের গিরা ভাঙ্গা ছিলো। আঘাতের চিহ্ন গুলো কেমন ছিলো জানতে চাইলে তিনি আরো জানান, বেত বা লাঠিসোটা দিয়ে মারলে যেমন হয় তেমন চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া আয়েশার কাঁদে থেঁতলে যাওয়ার মত মনে হয়েছে। এই সময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের গর্ভধারিনী মা ফরিদা বেগম, বোন পিয়ারু আকতার, ভাবি জেবুন্নেসা, গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আয়শা আকতার, বিবি ফাতেমা শিল্পী ও রোকসানা আকতার ও স্থানীয় গন্যমান্য লোকজন।