চট্টগ্রাম নগরীতে মালিককে কৌশলে বের করে দিয়ে দোকান থেকে ১৯ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরির ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তি পেশায় চা-দোকানি। কিন্তু এর পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে-ঘুরে দোকান, বাসাবাড়িতে চুরি তার অন্যতম পেশা। এলাকার লোকজন তার চুরির স্বভাব সম্পর্কে অবহিত থাকলেও পেশাদার চোরে পরিণত হওয়ার বিষয়টি জানতো না।
মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে নগরীর চান্দগাঁও থানার মোহরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
গ্রেফতার আমির হোসেন (৩৮) নগরীর চান্দগাঁও থানার মধ্যম মোহরা ওয়াসা রোডের বাসিন্দা। বাসার পাশেই শাহ আমানত হোটেল এন্ড ঝাল বিতান নামে তার একটি চা-নাস্তার দোকান আছে।
সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে নগরীর কোতোয়ালী থানার হাজারী লেইনের হাজারী মার্কেটে উদয়ন জুয়েলার্স নামে একটি দোকান থেকে ১৯ ভরি পাঁচ আনা চার রত্তি ওজনের কয়েকটি স্বর্নের চেইন, হাতের বেসলেট, কানের দুল চুরি হয়। এ ঘটনায় জুয়েলার্সের মালিক শিবপদ ধর বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, রোববার সকালে আমির হোসেন ক্রেতাবেশে উদয়ন জুয়েলার্সে যান। পরিবারের এক সদস্যের বিয়ের জন্য কিছু স্বর্ণালঙ্কার কেনার কথা বলেন মালিককে। তখন শিবপদ তাকে কিছু টাকা অগ্রিম দিয়ে অর্ডার দিতে বলেন। আমির পরদিন তার স্ত্রীকে নিয়ে আসার কথা বলে দোকান থেকে চলে যান।
সোমবার সকালে আমির মালিক শিবপদকে ফোন করে বলেন- তিনি হাজারী লেইন কালীমন্দিরের সামনে তার গর্ভবতী নিয়ে অপেক্ষা করছেন, দোকান চিনতে পারছেন না, মালিক যেন গিয়ে তাদের নিয়ে যান। আমিরের কথায় বিশ্বাস করে শিবপদ দোকান খোলা রেখে কালীমন্দিরের সামনে যান। ফিরে দেখেন তার দোকানের সিন্দুক খোলা। সেখানে রক্ষিত স্বর্ণালঙ্কারগুলো নেই।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালী থানার এসআই মোমিনুল হাসান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করি। সেখানে দেখা যায়, জুয়েলার্সের মালিক দোকন থেকে বের হওয়ার পর বর্ণিত ব্যক্তি ১০টা ৪১ মিনিটে দোকানে প্রবেশ করেন। ১০ টা ৫০ মিনিটে তিনি বেরিয়ে যান। আমরা ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোহরায় তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করি। এরপর আমিরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী তার চা দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে স্বর্ণালঙ্কারগুলো উদ্ধার করা হয়।’
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমির প্রায় ১৫০ দোকান-বাসাবাড়িতে চুরির তথ্য দিয়েছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এসআই মোমিনুল হাসান বলেন, ‘আমিরের চুরির স্বভাব পুরনো। এলাকার লোকজন তাকে আমির চোরা বলে ডাকে। বছরখানেক আগে এলাকায় দোকান দিয়ে চা-নাস্তা বিক্রি শুরু করেন। প্রতিদিন সকালে ২-৩ ঘণ্টার জন্য দোকান থেকে বেরিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে জুয়েলারি, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন দোকান টার্গেট করেন চুরির জন্য। পরে সুবিধাজনক সময়ে গিয়ে সে দোকান থেকে চুরি করে মালামাল নিয়ে আসে। ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তঃত দেড়শ দোকানে চুরির তথ্য আমির স্বীকার করেছেন।’