বাঁশখালীর ১১ হত্যা: ৩৪ সাক্ষীকে হাজিরে পরোয়ানা

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো: দুই দশক আগে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় ৩৪ সাক্ষীর বিরুদ্ধে হাজিরা পরোয়ানা জারি তামিলের জন্য চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বারবার সমন পাঠানোর পরও সাক্ষ্য দিতে না আসায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত পরোয়ানা জারি করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা পিপি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী।

রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এইচ এম শফিকুল ইসলাম এ আদেশ দিয়ে আগামী ৬ মার্চ পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের সময় নির্ধারণ করেছেন।

জেলা পিপি ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী জানিয়েছেন, মামলার অভিযোগপত্রে মোট ৫৭ জনকে সাক্ষী করা হয়। গত দশ বছরে মাত্র ২৩ জনের সাক্ষ্য সম্পন্ন হয়েছে।

রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) সাক্ষ্যগ্রহণের ধার্য দিন থাকলেও কেউ আসেননি। বারবার সমন পাঠানোর পরও তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ সদস্য এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দাখিলকারী চিকিৎসক সাক্ষ্য দিতে আসেননি।

এ অবস্থায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাকি সকল সাক্ষীকে হাজির করতে পরোয়ানা জারি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন আদালত।

ইফতেখার সাইমুল বলেন, ‘নৃশংস এই ঘটনার ১৯ বছর পার হয়ে গেছে। বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে ১০ বছর পার হয়ে গেছে। অথচ সাক্ষীর অভাবে মামলার বিচারকাজ এগোচ্ছে না। এই ঘটনা পুরো জাতি শুধু নয়, বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছিল। এমন ঘটনার বিচার দ্রুত শেষ হওয়া উচিৎ। সাক্ষীসহ সবার আরও আন্তরিক হওয়া উচিৎ।’

২০০৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর গ্রামের শীলপাড়ার তেজেন্দ্র লাল শীলের বাড়িতে আগুন দিয়ে একই পরিবারের ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বেঁচে যাওয়া পরিবারের একমাত্র সদস্য বিমল শীল বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় মামলা দায়ের করেন।

নিহতরা হলেন- বাদী বিমলের বাবা তেজেন্দ্র লাল শীল (৭০), মা বকুল শীল (৬০), ভাই অনিল শীল (৪০), অনিলের স্ত্রী স্মৃতি শীল (৩২) এবং অনিলের তিন সন্তান রুমি শীল (১২), সোনিয়া শীল (৭) ও চার দিন বয়সী কার্তিক শীল। এছাড়া বিমল শীলের চাচাতো বোন বাবুটি শীল (২৫), প্রসাদি শীল (১৭), এনি শীল (৭) এবং কক্সবাজার থেকে বেড়াতে আসা তার মেসো দেবেন্দ্র শীলও (৭২) এদিন পুড়ে মারা যান।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার হ্লা চিং প্রু ২০১১ সালের ৯ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এতে বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমানকে প্রধান করে ৩৯ জনকে আসামি করা হয়। সাক্ষী করা হয় ৫৭ জনকে।

ওই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ৩৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। পরবর্তীতে সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সম্পূরক আরেকটি ধারায় ওই বছরের ১৯ এপ্রিল ৩৮ আসামির বিরুদ্ধে আবার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

২০১২ সালের ১২ মে চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ঘুরে ফেরত আসার পর ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতেই চলছে বিচার।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.