এক যুগের বেশি সময় পর গদি ছাড়লেন আজিম শরীফ

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর গদি ছেড়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজিম শরীফ। সম্প্রতি বদলিজনিত কারণে তাকে নতুন করে ঘাঁটি গাঁড়তে হচ্ছে কুতুবদিয়ায়।

তার বদলিতে সাতকানিয়ার মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এসেছে খুশির জোয়ার। ৬৭৯ শিক্ষকের নাস্তার টাকার গিলে বলি হতে হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজিম শরীফকে। এক যুগেরও বেশি সময় পর তাকে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।

কারিকুলাম বিস্তরণের প্রশিক্ষণে শিক্ষকদের নাস্তা, ফাইলসহ নানা বরাদ্দে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে সম্প্রতি। শিক্ষকদের অভিযোগ তুলে ধরে সেসময় সরেজমিনে ঘুরে এসে ‘৬৭৯ শিক্ষকের টাকা একাই গিলেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা’ শিরোনামে চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে দায়িত্বশীলদের নজরে আনে। সেসময় তিনি সব অভিযোগ মিথ্যে বলে দাবিও করেন।

শিক্ষকদের টাকা ‘মেরে’ দেয়া ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ১২ বছরে পাহাড়সম অভিযোগ। এমপিওভুক্তি, শিক্ষক নিয়োগ, পাবলিক পরীক্ষা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ছাড়াও নানা খাত থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। পাবলিক পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলাসহ নানা কারণে এমপি নজরুল ইসলাম ভরা মজলিশে তার ভৎর্সনা করে সাতকানিয়া ছাড়ার তাগিদ দিয়েছিলেন। এছাড়া তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও চিঠি লিখেছিলেন। কিন্তু তদবির ব্যবসার কারণে বারংবার তা ভেস্তে গেছে।

সাতকানিয়া যোগ দেওয়ার আগে পটিয়া ও খাগড়াছড়িতেও একই ধরণের অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে।

সাতকানিয়ার শিক্ষক সমাজে স্বস্তির বাতাস বইছে বলে মন্তব্য করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক। তারা বলেন, কথায় কথায় টাকা। টাকা ছাড়া এক ফোঁটাও পরতো না আজিম শরীফের কলমের কালি। আমরা বারবার প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলেও চাকরি হারানোর ভয়ে আর করতে পারিনি। কেননা আজিম শরীফ সুকৌশলে রাজনৈতিক চ্যানেল মেনটেইন করে চলতেন।

 

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.