চরতীতে রিজিয়া রেজার গাড়ীবহরে হামলা, আহত ১৭জন

চট্টগ্রাম ১৫ আসনের নির্বাচনী হালচাল

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার চরতী ইউনিয়নে নৌকা প্রার্থীর গণসংযোগে আবার সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান এবং চরতী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ চৌধুরী গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে চরতী ইউনিয়নের কাটাখালী ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, পূর্বনির্ধারিত প্রচারণার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামুদ্দিন নদভীর পক্ষে চরতী ইউনিয়নে গাড়িবহর নিয়ে প্রচারণা চালাতে যান তার সহধর্মিনী মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিজিয়া রেজা চৌধুরী।

দিনভর প্রচারণা শেষে কাটাখালী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা হামলাকারীরা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। প্রচারণায় অংশ নেওয়া নৌকার সমর্থকদের এ সময় মারধর করা হয়। এর একপর্যায়ে সাতকানিয়া থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান এবং চরতী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ চৌধুরীসহ অন্তত ১৭জন  গুরুতর আহত হন।

রিজিয়া রেজা চৌধুরী বলেন, ‘পূর্বনির্ধারিত প্রচারণার অংশ হিসেবে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে চরতী ইউনিয়নে গাড়িবহর নিয়ে প্রচারণা চালাতে যাই আমরা। সন্ধ্যার দিকে কাটাখালী ব্রীজ এলাকায় পৌঁছালে স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ মোতালেবের নামে স্লোগান দিতে দিতে এক দল সমর্থক আমাদের গতিরোধ করে। তারা ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে আমাদের গাড়িবহরে ভাঙচুর চালায়।’

মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এই সদস্য অভিযোগ করেন, ‘হামলাকারীরা সকলেই চিহ্নিত। তারা সকলেই ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান ও এমএ মোতালেবের অনুসারী। আমরা চরতীর দিকে যাওয়ার সময় বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নিয়েছিল। তারা প্রতিনিয়ত স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ হয়ে চরতীতে নৌকার সমর্থকদের ঘরবাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। মঙ্গলবারও তারা চরতীতে হামলা চালিয়েছে।’

 

রিজিয়া রেজা চৌধুরী আরও বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী  আওয়ামী লীগের দলীয় হাইকমান্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হারাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে এখন সন্ত্রাসী তৎপরতা শুরু করেছেন। কারণ প্রফেসর ড. আবু রেজা নদভীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হতে তিনি ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। কিন্তু সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার জনগণ নৌকার পক্ষেই রায় দিবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে তারা শক্তিশালী রাখবে।’

 

এদিকে হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত চরতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু রেজা নদভীর পক্ষে প্রচারণা চালাই দিনভর। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ততা দেখে এমএ মোতালেবের ঈর্ষা জেগেছে। তাই হামলার পথ বেছে নিয়েছে। আমার উপরও তারা হামলা চালিয়েছে। ২০-২৫ নেতাকর্মীকে আহত করেছে।’

 

সূত্র :দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিন 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.