বান্দরবানের পাইন্দু রেঞ্জ, জোতের আড়ালে বিলীন হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল
সোহেল হোসেন ও রেঞ্জের স্টাফ মালচনের বেপরোয়া চাঁদাবাজি-
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
বান্দরবান বন বিভাগে একের পর এক নিয়মবহির্ভূত জোতের আঁড়ালে বিলীন হতে বসছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংসের পেছনে স্বয়ং বনবিভাগের অনিয়ম ও উদাসীনতায় দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশবাদীরা।
বনবিভাগে দায়িত্বরত ফরেস্ট ও গার্ড এবং স্টাফদের ধারাবাহিক অনিয়মের ফলে দিন দিন উজাড় হতে চলছে বান্দরবান বন বিভাগের পাইন্দু রেঞ্জ।
জানা গেছে, এই রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল হচ্ছে ৬০০০ একর।
প্রকৃত পক্ষে সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে দেখা দেয়া আয়তন কমে আর আগের বনাঞ্চলের আয়তনের হিসাবে নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পাইন্দু রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কাটার দায়ে পূর্বের রেঞ্জার মোদাচ্ছের, একজন ফরেস্টার এবং একহন স্টাফ বরখাস্ত হয়েছে।
এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে, আগের অপকর্মের দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হলেও বর্তমানে একই রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো:সোহেল হোসেন আরো বেপরোয়া ভাবে ভূয়া জোতের নাম বিক্রি করে আলেখ্যং মৌজার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ বিক্রি করে যাচ্ছে দেদারসে।
এই রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কাটার সহায়তা করে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো:সোহেল হোসেন ও রেঞ্জের আউট সোর্সিং কর্মচারী মালচন রাস্তা থেকে প্রতিদিন বিপুল অংকের চাঁদা আদায় করার খবর রয়েছে।
তথ্যে দেখা যায়, আলেখ্যং মৌজায় তার কোন জোত নেই তবে ওখান থেকে যে গাছ বের হচ্ছে ওগুলো রিজার্ভ থেকে কাটা গাছ বলে জানিয়েছেন বনবিভাগের কর্মরত একজন স্টাফ।
পাইন্দু রেঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা মামুন বলেন,আলেখ্যং মৌজায় তার কোন জোত নেই। কিন্তু নিয়মিত এই মৌজায় রিজার্ভের গাছ পাচার হচ্ছে যা শুধু জোত তদন্ত করলে দেখা যাবে।
মামুন আরো বলেন,পাইন্দু রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: সোহেল হোসেনের মতো যারা বনবিভাগ কেনাবেচা করতে পারদর্শী তাদের সবাইকে বান্দরবান বন বিভাগের সদর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়।
ফলে বিভিন্ন রেঞ্জের উপর চাঁদাবাজির খবরদারি চলে বান্দরবান সদর রেঞ্জ থেকে।
পাইন্দুর বাসিন্দা মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, আমি এখন গাড়ীতে আপনাকে পাইন্দু রেঞ্জ ও বান্দরবান সদর রেঞ্জের তথ্য ফ্রী হয়ে দিবো।
এদিকে এই বিষয়ে জানার জন্য পাইন্দু রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: সোহেল হোসেনকে কল করা হলে তিনি বলেন,পার্বত্য এলাকায় কোথাও কোনটা রিজার্ভ আর কোনটা রিজার্ভ নয় সেটা জেলা পরিষদ থেকে মেনশন করা হয়নি।
আমার এরিয়ায় রিজার্ভ ৬হাজার নয় ২হাজার একর হবে।আর আমার এই রেঞ্জর রিজার্ভ থেকে কোন গাছ কাটা যায় না।
এবং মালচনও রাস্তা থেকে টাকা তোলেনা।
গাছ কাটা না গেলে আপনার রেঞ্জ থেকে গাছবাহী ট্রাক বের হয় কেমনে?এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ওই গাছবাহী ট্রাক গুলি রুমা থেকে আসে।
কারণ রুমাতে তো অনেক গুলো রেঞ্জ আছে,তবে ওখান থেকে আসা গাড়ী গুলো আমার রেঞ্জের উপর দিয়ে চলে।