চুনতী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল হয়ে গেছে প্রায় ১হাজার একর

বনভূমিতে ঘর বসিয়ে কাঁচা টাকা গুনছেন চঞ্চল কুমার তরফদার - আমলনামা ০১

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

দক্ষিণ চট্টগ্রামের চুনতী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নির্ধারিত জায়গা দিন দিন কমে যাচ্ছে।অভয়ারণ্যের নির্দিষ্ট বনভূমি স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে গেলেও নির্দিষ্ট মাসোহারার বিনিময়ে চুনতী বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যের কর্তৃপক্ষের কোন তোড়জোড় দেখা যায়নি দীর্ঘ ২বছর যাবত।

 

সংরক্ষিত বনভূমি পাশ ঘেঁষে  অনেককে  উত্তোলন করতে দিয়েছেন বালি ও কাটতে দিয়েছেন সংরক্ষিত বনভূমির টিলা।

 

এসবের মূলে রয়েছে মূলত দীর্ঘদিন ধরে একই স্টেশনে চাকুরী করা চুনতী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে দায়িত্বরত বিট কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার তরফদার। প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি তথ্যে দেখা যায়, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত চুনতী বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যে সংরক্ষিত বনভূমি বেদখল হয় প্রায় ৮০০ একরের কাছাকাছি। কিন্তু বিট কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার তরফদারের দূর্নীতির প্রতিযোগিতার দৌঁড়ে তা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১হাজার একরেরও বেশী বলে সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার তরফদারকে ম্যানেজ করে এভাবে বসানো হচ্ছে ঘরবাড়ি

 

জানা যায়, ১৯৮৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৩ একর জায়গা নিয়ে চুনতি অভয়ারণ্যের সূচনা হয় এবং সেখানে হাতি সজারু, মায়া হরিণ, বন্য শুকুর, বনরুই, বানর, বিভিন্ন প্রজাতির কাঠবিড়ালি, বনমোরক, সর্প, খরগোশ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জোন হিসাবে গড়ে তোলা হয়। তবে বর্তমানে হাতির সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০টি হবে এবং হাতির প্রজনন সবচেয়ে বেশি চুনতি অভয়ারণ্যে হয়।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা যায় –২০১২ সালে জুন মাসে সবচেয়ে বেশি হাতি প্রজননের জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক চুনতি অভয়ারণ্য পুরস্কার লাভ করেছিল এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশের বন, পরিবেশের, ও জলবায়ু এই তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত সুফল প্রকল্পের আওতায় প্রাণীদ্বয়ের জন্য খাদ্য ও বাসস্থান হিসেবে হরিতকি, বহেরা, চাপালিস, তেলচর, সিভিট, গামার, শিমুল, মহুয়া, কাঠবাদামসহ বিভিন্ন ধরনের ফলজ গাছের বাগান করা হচ্ছে, অভয়ারণ্যের পূর্ব থেকে কিছু লোক নিজ খতিয়ান ভুক্ত জমির পাশাপাশি সরকারি খাস জায়গা অবৈধ দখল করে বসতি স্থাপনা করছে এবং এগুলো উদ্ধার কাজ চলমান জবর দখলের পরিমাণ ৭১৩.৮২ একর। তবে বর্তমানে চঞ্চল কুমার তরফদারের অবহেলার কারণে প্রায় ১হাজার একরের মতো ভূমি জবর দখলের আওতায় চলে গেছে।

 

বিট কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার তরফদার ও রেঞ্জারকে টাকা দিয়ে টিলা কেটে করা হচ্ছে পানের বরজ

অনুসন্ধানে জানা যায়,২৪০০ জনের মতো লোকের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ মামলা চলছে। তবে কিছু কিছু বন মামলা বিক্রি করে বিট কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার তরফদার রাতারাতি বনে গেছেন কোটিপতি।

তার বনভূমি বেচাকেনার অভিনব কৌশল হচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ের কিছু লোকাল সাংবাদিককে মাসিক মাসোহারা দিয়ে তার বিরাট দূর্নীতি ধামাচাপা দেয় বলে চুনতী বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যে দায়িত্বরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২জন কর্মচারী দৈনিক সকালের সময়কে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে চুনতী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নানা অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদক ৩মাস ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে বিট কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার তরফদারকে তিন মাসে অন্তত ১০বার কল করেন এবং হোয়াটসঅ্যাপ এ টেক্সট পাঠিয়েও কোন জবাব নেয়া সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে আরো ওঠে এসেছে, চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জাধীন আজিজনগর বন বিট এলাকায় সংরক্ষিত পাহাড় কেটে একাধিক পানের বরজ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের রেললাইনের এলিফ্যান্ট আন্ডারপাসসংলগ্ন এ এলাকায় বনভূমি দখলে আজিজনগর বন বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দখলদারদের সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। চঞ্চল কুমার তরফদার নামে বিট কর্মকর্তা হলেও মূলত তিনিই পুরো চুনতী বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যের দূর্নীতির সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করেন বলে সুস্পষ্ট তথ্য রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, আজিজনগর বন বিটের জাঙ্গালিয়া মাজারের পশ্চিমে এবং এলিফ্যান্ট আন্ডারপাসের দক্ষিণে কমপক্ষে আটটি পানের বরজ গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি বরজ সম্প্রতি পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পানের বরজ মালিক জানান, তারা আজিজনগর বন বিট কর্মকর্তা আসিফ মিয়াকে পানের প্রতি বরজ করতে ১৫ হাজার টাকা এবং পাহাড় কাটার জন্য আরও ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাকে ও চঞ্চল কুমার তরফদারকে।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.