সাতকানিয়ার উত্তাল বন্যার স্রোতে ডরহীন মাঝি ছিলেন ইউএনও মাহমুদুল হাসান
বন্যার্তদের বুনা স্বপ্নে ঘটেছে বিচ্ছেদের করুণ সুর- বেঁচে ফেরা মাহমুদুল হাসানের চোখেই
সৈয়দ আককাস উদদীন, চট্টগ্রাম থেকে
গেল সপ্তাহে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত ছিলো জনজীবন। ভেসে গেছে মাঠঘাট রাস্তা এবং মানুষের ঘরবাড়িও সাথে ঘটেছে প্রাণহানি। দীর্ঘদিনের বুনা স্বপ্নে ঘটেছে বিচ্ছেদের করুণ সুর।
এদিকে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে পরিমাণ ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সেই পরিমাণের তুলনায় প্রাণহানির সংখ্যা খুবই কম সাতকানিয়া উপজেলায়।
কারণ উপজেলা প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতায় মানুষ আশ্রয় নিয়েছে নিরাপদ স্থানে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান প্রতিটি ঘন্টায় ছুটে চলেছেন সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে, এবং দূর্গম প্রত্যন্ত অঞ্চলে কখনো নৌকা যোগে কখনো হেঁটে চলেছেন অবিরাম ফলে ব্যাপক দূর্ঘটনার যে আশংকা ছিলো সেখান থেকেই সত্যি সত্যিই সাতকানিয়াবাসী পরিত্রাণ পেয়েছে বলে প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন একাধিক সূত্র।
সাতকানিয়ার সিনিয়র সাংবাদিক রুকন উদদীন রুবেল বলেন,বন্যার ভয়াবহতা থেকে বাঁচাতে যেমন ইউএনও ছুটেছেন তেমনি অপর এক পাশে বন্যার্তদের ক্ষুধা নিবারণে সঠিক চাহিদা যোগানেও ছিলো মাহমুদুল হাসান সাহেবের ভূমিকা অতুলনীয়।
তিনি আরো বলেন মূলত নিজের পরিবারকে একজন অভিভাবক যেমন সর্বোচ্চ দিয়ে আগলে রাখার চেষ্টা চালান সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদে থেকেও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান প্রকৃত পক্ষে সেটাই করেছেন।
এদিকে সাতকানিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথেও কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক,রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গরা জানান-দলমত নির্বিশেষে এই ভয়াবহ বন্যায় সর্বসাধারণের পাশে দাড়াঁবার ব্যাপক সাহস রেখেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
তারা আরো বলেন,জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে সাতকানিয়ার ইউএনওকে উত্তাল বন্যার স্রোতে ডরহীন নাবিক ইউএনও পদে ভূষিত করে সম্মাননা প্রদান করা দরকার।
কারণ ভালো কাজে অবশ্যই অবশ্যই উৎসাহ প্রদান করা লাগবে আমাদের সরকারকে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, শত শত কষ্টের বিনিময়ে লালিত আশাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে মুহুর্তেই ঢুকিয়ে পড়া বানের পানি।
আর সেই ডুবে যাওয়া হাজারো মানুষের চোখে- তখন বেঁচে ফেরার পুনরায় স্বপ্নের মানুষ ছিলো সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।