বাঁশখালী চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
সরকারি বয়স্ক ভাতা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বৃদ্ধা মায়ের কাছ থেকে জমি হেবা দলিল করে নিয়ে তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিজ কন্যার বিরুদ্ধে। চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের পশ্চিম চাম্বল মুন্সিখীল চৌধুরী বাড়ী এলাকায় ঘটেছে এ অমানবিক ঘটনা।
ভুক্তভোগী বায়োবৃদ্ধা ও উর্মি প্রকৃতির লোক ছালেহা বেগম চৌধুরী (৮৪) অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ে জামিলা আক্তার বিগত ২০২১ সালের ১৩ ই ডিসেম্বর প্রায় ৪ বছর আগে তাকে বলেন “মা, তোমার জন্য বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিবো। জমির কাগজ আর NID লাগবে, একটু সই করে দাও”। সরল বিশ্বাসে মেয়ের কথায় সাদা স্ট্যাম্প ও দলিলে টিপসই দেন তিনি।
পরে জানতে পারেন, সেটি বয়স্ক ভাতার কাগজ ছিল না। তার ২/১ (দুই গন্ডা এক ক্রান্তি এক তিল) জমি মেয়ের নামে হেবা করে দেওয়া হয়েছে। দলিল রেজিস্ট্রির কয়েক বছর পর তিনি চট্টগ্রাম শহরে চিকিৎসা জনিত কারণে ছেলের বাসা থেকে পুনরায় গত ১৫ জুন ২৬ ইং তারিখ বাড়িতে ফিরলে তিনি দেখেন বাড়িটা ভাড়া বাসা দিয়ে দিয়েছে। পরে তিনি বাড়ি ডুকতে চাইলে আর ডুকতে না দেওয়ায় তার সন্দেহ হলে তিনি ছোট ছেলেকে নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর নিয়ে জানতে পারেন তার অজান্তে তার মেয়ে
ভুয়া হেবা ঘোষণাপত্র সৃষ্টি করেছে। এরপর থেকে থেকে তিনি আর বাড়িতে ডুকতে পারেননি। এ ঘটনা শুনার পর আমি উক্ত হেবা ঘোষণাপত্র বাতিলের জন্য সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে মামলা দায়ের করেছি । বর্তমানে তিনি বাড়ি সামনে বারান্দায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জামিলা আক্তারের স্বামী মনিরুজ্জমান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আমি উক্ত বাড়িটি সংস্কার করেছি, তাদের আরেক ভাইকে আমি আমার নিজ অর্থ দিয়ে থাকার জন্য বাড়িও করে দিয়েছি। ১৭ বছর আমার শাশুড়ীকে তার কোন ছেলে বা মেয়ে সন্তান কেউ দেখা শুনা করেনি, আমি করেছি। বিগত ৬ বছর পূর্বে আমার শাশুড়ী তার মেয়েকে ২ গন্ডা ১ ক্রান্তি ১ তিল জায়গা হেবা ঘোষণা করেছে। এত বছর পর এসে ছেলে- মেয়েদের কথা শুনে ষড়যন্ত্র করে আমাদের হেবা ঘোষণাপত্র বাতিলের জন্য মামলা করায় বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি। মামলায় যদি হেবা ঘোষণাপত্র বাতিল হয়, আমি ওই জায়গা আর দাবী করব না।
এ ব্যাপারে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ রবিউল হক বলেন, “এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ দিকে বয়স্ক ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তার নামে প্রতারণার এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত অভিযুক্ত মেয়ের বিচার এবং বৃদ্ধা মাকে তার বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।