নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার নিখোঁজ রায়হান দীর্ঘ সাত মাস পর পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে তার ফিরে আসায় স্বজনদের মাঝে স্বস্তি এলেও সেই আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে কান্না ও বেদনায়। কারণ, রায়হান ফিরে এসেছে একটি পা হারিয়ে।
রায়হান জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর দুর্বৃত্তরা ধরে নিয়ে যায়
একটি জঙ্গলে । সেখানে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও ভয় দেখানো হয়। পরিত্যাক্ত বাড়িতে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে।
একপর্যায়ে তার একটি পা কেটে পেলে ৩জন মহিলা।ইনজেকশন এর মাধ্যমে৷ এরপর তাকে দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করানো হতো বলেও দাবি করেন রায়হান।
রায়হানের পিতা জানান, প্রায় সাত মাস আগে হঠাৎ বাড়ি হতে অভিমান করে চুল কাটবে বলে চলে যায় রায়হান। এরপর পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধান চালান। দীর্ঘ সময় পার হলেও তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে রায়হান বাড়িতে ফিরে আসে। তাকে ফিরে পেয়ে স্বজনরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কিন্তু রায়হানের শারীরিক অবস্থা দেখে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রায়হান তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া নানা নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন। তিনি কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন, কোথায় ছিলেন এবং কারা তাকে নির্যাতন করেছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন স্বজনরা।
স্থানীয়দের মধ্যেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, একজন মানুষ সাত মাস নিখোঁজ থাকার পর এক পা হারিয়ে বাড়ি ফিরেছেন—ঘটনাটি কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে, দীর্ঘদিন পর সন্তানকে ফিরে পেলেও রায়হানের শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই তথ্য হাতে আসে প্রতিবেদকের কাছে৷ পরবর্তীতে আর কোন প্রশাসনিক কার্যক্রমের তথ্য হাতে আসলে তা তুলে ধরা হবে ২য় পর্বে।