কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও ডিএফওকে ‘ম্যানেজ’ করে তোলেন বেতন,দুটি রেঞ্জের মাসোহারা নেয়ার দায়িত্বই তার
একই বিষয়ে বার বার অভিযোগ ওঠলেও ব্যবস্থা নেয়নি ড.আবু নাসের মোহসিন-
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগে বদলী বানিজ্য নিয়ে বহুদিন ধরে চলছে ভুতুঁড়ে কান্ড।এবার এই কান্ডে জড়িয়ে গেল কয়েকমাস আগে আসা উত্তর বনবিভাগের ডিএফও ড.আবু নাসের মোহসিন হোসেনও।
সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, রাজু আহমেদ নামে একজন বনপ্রহরীকে চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন হাটহাজারী রেঞ্জের শোভন ছড়ি বিটে বদলী করা হয় গত বছরের ১৬/৫/২০২৫ ইং তারিখে।
কিন্তু ওই বদলীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আরো ৩মাস পর অর্থাৎ গত বছরের আগস্টের মাঝামাঝি বন প্রহরী রাজু আহমেদ নিজের খেয়াল খুশিমতো হাটহাজারী রেঞ্জের শোভন ছড়িতে যোগদান করেন।
কিন্তু উক্ত শোভন ছড়ির বিটে একবছর হওয়ার আগেই বন প্রহরী রাজু অদৃশ্য কারবারের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয় চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন কুমিরা রেঞ্জের লোভনীয় পোষ্টিং ফৌজদার হাট চেক স্টেশনের সহকারীর দায়িত্ব।
অপরদিকে শোভন ছড়ি বিটের দায়িত্বও কাউকে হস্তান্তর করেননি।হস্তান্তর না করে দুটো দায়িত্ব একসাথে চালাচ্ছেন এই বন প্রহরী রাজু আহমেদ।
রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বদলীর নির্দিষ্ট সময়সীমা না মেনে নিজের মতো করে চাকুরী করার অভিযোগ ওঠেছে।
এদিকে শোভন ছড়ি বিটের কি অবস্থা এবং বর্তমানে কে দায়িত্বে আছেন এবং রাজু আহমেদ কোথায় দায়িত্ব আছেন -সেটাও জানেননা বলে সাফ জানিয়ে দেন হাটহাজারী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: আয়ুব আলী।
তিনি বলেন,আমি রেঞ্জার হিসেবে রিলিজ দেয়ার কথা রাজু আহমেদকে।তবে তিনি আমার রিলিজ নিয়ে যায়নি।রাজু বর্তমানে কোথায় দায়িত্ব পালন করছেন সেটাও আমি বাস্তবে অফিসিয়াল ভাবে জানিনা।
এদিকে অভিযুক্ত বন প্রহরী রাজু আহমেদ বলেন,আমি এক বছর পর বদলীর আদেশ করায়ছি। আর আমি শোভন ছড়িতে মূল চার্জের দায়িত্বে আছি কিন্তু এই স্টেশনে সহকারী হিসেবে আছি।
একজন বনপ্রহরী রেঞ্জারের রিলিজ ছাড়া বিট ছেড়ে দিয়ে আরেকটা বিটের দায়িত্ব নিয়ে ডাবল দায়িত্ব পালন করার সুযোগ আছে কিনা? প্রশ্ন করলে তিনি বলেন -হ্যাঁ আপনি তো আমাদের বন বিভাগ সম্পর্কে সব জানেন সুতরাং আপনার বুঝার কথা এরকম নিয়ম আছে।আর আমার আশেপাশে অনেকেই ডুয়েল দায়িত্ব পালন করছেন অনেকেই।হয়তো আমারটা নিয়ে আমাদের ভেতরে কেউ ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।
এদিকে বনবিভাগ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, হাটহাজারীর শোভন ছড়ির বিটেও যাচ্ছেনা তিনি অপরদিকে ফৌজদার হাট স্টেশনের যাচ্ছেননা তিনি।
অর্থাৎ দুটি পদের ভিন্ন ভিন্ন জায়গার দুটি দায়িত্ব নিলেও কোন রেঞ্জেই নেই তার উপস্থিতি।
তবে দুটি পদ থেকেই মাসোহারা নিয়ে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপনে মশগুল বলে বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়।
এদিকে ফৌজদার হাট রেঞ্জের রেঞ্জার মঞ্জুরুল কাদের চৌধুরী বলেন,দুটি পদের দায়িত্ব পালন করাট সুযোগ নেই যেহেতু রেঞ্জ ভিন্ন।আর আমার কাছে জোন কাগজপত্র এখনো আসেন।
ওদিকে হাটহাজারীর রেঞ্জার এই রাজুকে কল করলে তিনি বলেন ফৌজদার হাট স্টেশনে আবার ফৌজদার হাট স্টেশন থেকে কল করলে তিনি বলেন শোভনছড়িতে আসলে তিনি থাকেন কই?
সূত্র নিশ্চিত করেছেন তিনি মূলত কোথাও বসেননা ব্যক্তিগত কাজে থাকেন চট্টগ্রাম শহরের আবাসিক একটা হোটেলে।
এদিকে একটি নথিতে দেখা যায়, রাজু আহমেদের জুনিয়র যারা তারা সবাই ডিভিশন বদলী হলেও বদলী করা হচ্ছেনা এই রাজু আহমেদকে। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক ২জন রেঞ্জার জানিয়েছেন,বিট কর্মকর্তা রাজু আহমেদে বদলী তো দূরের কথা তাকে দুটি রেঞ্জের ২টি পদ দিয়ে বসে আছেন চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের ডিএফও ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন।কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও কিভাবে বেতন তোলে এবং একই ফরেস্ট গার্ডকে বিট কর্মকর্তা বানিয়ে দুটি রেঞ্জের ২টি গুরুত্বপূর্ণ পদ কিভাবে দেয়া হলো এমন প্রশ্নের জন্য কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পরে প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে টেক্সট করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে তিনি এই ডিভিশনে যেহেতু নতুন এসেছেন তাই রাজু আহমেদের মতো বেশ কয়েকজনকে হাতে নিয়ে একটি মাসোহারা আদায় সিন্ডিকেট গড়ে তোলেছেন বলে উত্তর বনবিভাগের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন।