বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বনভূমির জায়গা দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে দখলদারদের সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগ ও পুলিশের সদস্যরা। এতে বন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বাঁশখালী ইকোপার্কের জঙ্গল শীলকূপ মৌজার ৯ নং ওয়ার্ডের করলাশীয়া এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট তোফাজ্জল হোসেন (৪৫), জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট অঞ্জন দে (৩৫), সুভাষ চন্দ্র লস্কর (৪২), পাহারাদার দেলোয়ার হোসেন (৪৫), শামসুল আলম (৪৫) এবং অভিযানে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা। আহতদের উদ্ধার করে বাঁশখালী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালী ইকোপার্ক সংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে পাকা ও আধা-পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে আসছিল। গত এক সপ্তাহ আগে বন বিভাগের জমি অবৈধভাবে দখলের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগ ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল উক্ত স্থানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে দখলদার ও তাদের সমর্থকরা সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বন কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে টিমকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। এতে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৭ জন রক্তাত্ব আহত হন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ফরেস্ট রেঞ্জার মো. ইসরাঈল হক বলেন, “সংরক্ষিত বনভূমির জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের খবর পেয়ে আমরা পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে অভিযানে যাই। কিন্তু দখলদার চক্রটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরকারি কাজে বাধা দিয়ে আমাদের টিম ও পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে এবং এ বিষয়ে বন বিভাগ বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় মামলার প্রক্রিয়া চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সরকারি বনভূমি রক্ষায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।