পোমরা চেক স্টেশন: এসিএফ দেলোয়ারের আশীর্বাদে এস’ও সিদ্দিকুরের পোয়াবারো

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ-

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জের পোমরা চেক স্টেশনে চলছে হরিলুট।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সরেজমিনে রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ’র বিভিন্ন বিটে সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে বিশেষ করে পোমরা চেক স্টেশনে বেশ কিছু অনিয়মের তথ্য দৈনিক সকালের সময় ও চট্টগ্রাম সংবাদ’র  প্রতিবেদকের নিকট প্রতীয়মান হয়।

 

জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জটির পোমরা চেক স্টেশনের দায়িত্বে আছেন মো: সিদ্দিকুর রহমান নামে এক ডেপুটি রেঞ্জার।

 

তিনি পোমরা চেক স্টেশনে টিপি চেকের নামে স্থানীয় পর্যায়ে  অবাধে চালাচ্ছেন গাছ পাচার ব্যবসা, ফলে বনবিভাগ হারাচ্ছে বড় অংকের রাজস্ব।

তবে সরকার রাজস্ব হারালেও চেক স্টেশনের দায়িত্বে থাকা সিদ্দিকুর রহমানের পকেট হচ্ছে ভারী।

গভীর অনুসন্ধানে ওঠে আসে, গত ১বছরের মধ্যে একটি বারও এই ডেপুটি রেঞ্জার ও পোমরা চেক স্টেশন কর্মকর্তা  সিদ্দিকুর কোন সাংবাদিকের ফোন রিসিভ করেননি।

কারণ হিসেবে ওঠে এসেছে ডেপুটি রেঞ্জার সিদ্দিকুর নাকি একজন মানষিক রোগী মাঝে মাঝে নিজে আকাম করে আত্মগোপন হয়ে যায়। অপরদিকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের (এসিএফ) সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেন কিন্তু  এই সিদ্দিকুরের পক্ষে সাফাই দিয়ে হারিয়ে গেছেন বলে মিডিয়ায়  প্রায় সময় তথ্য দিয়ে থাকেন।

 

মূলত গভীর পর্যবেক্ষণে ওঠে এসেছে, এই সিদ্দিকুর ডেপুটি রেঞ্জার হিসেবে পোমরা চেক স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ন স্টেশনে কাজ করলেও সকল হিসাবনিকাশ রেঞ্জার মেহেরাজকে বাদ দিয়ে সরাসরি এসিএফ দেলোয়ারই করেন নিয়ন্ত্রণ।

 

তাই গত ১বছর যাবত কোন মিডিয়াকে সংশ্লিষ্ট স্টেশন ও বনবিভাগের বিভিন্ন বিষয় তথ্য না দিলেও এসিএফ দেলোয়ারের আশীর্বাদেব একই স্টেশনে টিকে আছেন দূর্নীতিবাজ পাগলাটে সিদ্দিকুর রহমান।

এই সিদ্দিকুরকে পাগল বানিয়ে লোকসমাজে পরিচিত করে ওই পাগলের আড়াঁলে চলছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ারের বানিজ্য।

 

এদিকে ছদ্মবেশে সিদ্দিকুর থেকে সামনাসামনি কৌশলে এমন বক্তব্য আদায় করেছেন এই প্রতিবেদক।

প্রতিবেদককে সিদ্দিকুর বলেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের এসিএফ স্যারের নির্দেশনা আছে আমি যতদিন এই স্টেশনে চাকুরীতে আছি ততদিন কোন সাংবাদিকের ফোন রিসিভ না করতে,আর আমার স্টেশনের বিষয়টা কোন রেঞ্জ কর্মকর্তা মেইনটেইন করবেনা করেন এসিএফ স্যার।

 

এদিকে এসিএফ দেলোয়ারকে প্রতিবেদক প্রশ্ন করেছিলেন পোমরা চেক স্টেশনের (এসও) সিদ্দিকুর রহমান সাংবাদিকের কল ধরেননা আপনার অজুহাত দিয়ে এরকম কোন অলিখিত নির্দেশনা দিয়েছেন কিনা?তখন তিনি বলেন এমন কোন নির্দেশনা নেই, তবে এখন কল দিচ্ছি এবং বলে দিচ্ছি।

 

অভিযোগ ওঠেছে, এসিএফ দেলোয়ার দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন চেক স্টেশন থেকে ডিএফওকে ম্যানেজ করতে হবে এমন অজুহাতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার।

এবং বাগান ও উন্নয়ন মূলক প্রকল্প পরিদর্শনের নামেও একাধিক রেঞ্জার থেকে মোটা অংকের নিয়েছেন উৎকোচ।

আর এসব উৎকোচের অধিকাংশই এসিএফ দেলোয়ারের পক্ষে রিসিভ করেন পাগলা সাজিয়ে রাখা রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জের পোমরা চেক স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা সিদ্দিকুরকে।

এদিকে সিদ্দিকুর রহমান সম্পর্কে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগে চাকুরী করা এক কর্মকর্তা বলেন,সিদ্দিকুর কিন্তু একসময় আসলেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন,আর এখন ভালো হলেও মূলত দক্ষিণের এসিএফ দেলোয়ার স্যার তাকে দিয়ে দক্ষিণের অপকর্মগুলি সুকৌশলে করে থাকেন।

এদিকে রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ’র একাধিক বাসিন্দা বলেন,
রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জের পোমরা চেক স্টেশনটি মূলত কাঠ, পাহাড়ি সম্পদ ও বনের কাঠ পাচার রোধে পাহারা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত। তবে সঠিকভাবে তদারকি না করার কারণে অনেক সময় কাঠ পাচার ও অনিয়মের সাথে চেক স্টেশনের অসাধু সিন্ডিকেটের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। তারা আরো বলেন, এই অসাধু চক্রটি মূলত সিদ্দিকুর সরাসরি চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বড় কর্তাদের ম্যানেজ করেই করে থাকেন বলে আমরা জানি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.