পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় শাশুড়ি কে হত্যা!

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পুত্রবধুর হাতে ছুরিকাঘাতে শাশুড়ী নিহত হওয়ার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ধৃত সেই গৃহবধু নাজমিন আক্তার। গত ২জুলাই শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রামের  বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কৌশিক আহম্মেদ খন্দকার এর আদালতে এ জবানবন্দি দেন।

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বনিবনা না হওয়া, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাশুড়ির হস্তক্ষেপ করাকে কেন্দ্র করে পুত্রবধু নাজমিনের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। সেই ক্ষোভের বসবতি হয়ে গত ২১ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটার সময় খাগরিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মৈশামুড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ইলিয়াছ চৌধুরীর স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৫৫) কে ব্যাপক ছুরিকাঘাত করে পুত্রবধু নাজমিন। ঐ সময় রোকেয়া বেগমের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। ঐদিনই পুত্রবধু নাজমিন আক্তারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে থানায় একটি মামলাও হয়। এদিকে চমেক হাসপাতালে রোকেয়া বেগমের অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ জুন সন্ধ্যা ৬টার সময় তিনি মারা যান। এর প্রেক্ষিতে থানায় আগে দায়েরকৃত মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়। এ মামলায় ইলিয়াছ চৌধুরীর ছেলে গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী নাজমিন আক্তারকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ বিচারকের কাছে শাশুড়ীর হত্যার বর্ণনা দেন।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, শাশুড়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় ধৃত গৃহবধু নাজমিন আক্তার বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পারিবারিক কলহের জের ধরেই মূলত সে নিজে ছুরিকাঘাত করে শাশুড়ীকে হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে। নাজমিন আক্তার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের  সাতগড়িয়া পাড়ার কবির আহমদের মেয়ে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.