ছয় বছর পর পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালু হয়েছে জেনারেল এনেস্থেসিয়ার মাধ্যমে অপেরশন। এর মাধ্যমে এ হাসপাতালে প্রসূতি রোগীর পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের ছোট ও মাঝারি ধরণের অপারেশন করা যাবে।
মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) কলি আক্তার নামে ২৮ বছর বয়সী ২ সন্তানের জননীর টনসিলেক্টমি (Tonsillectomy) অপরেশনের মাধ্যমে চালু হয় এ সেবা। এতে নেতৃত্বদেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাক-কান-গলা ইউনিটের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মানব কুমার চৌধুরী।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতিদের এনেস্থেসিয়ার মাধ্যমে অপারেশন করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাধারণ এনেস্থেসিয়ার মাধ্যমে অপারেশনের ব্যবস্থা নেই কোনো হাসপাতালে। ফলে সামান্য অপারেশন করতেও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে বা জেলা হাসপাতালে যেতে হয় রোগীদের।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেল এনেস্থেসিয়া চালুর ফলে হাসপাতালের চিকিৎসা সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেস্থেসিয়া) ডা. সৌমেন বড়ুয়া বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য এটি একটি উদাহরণ হতে পারে। হাসপাতালে একটি এনেস্থেসিয়া মেশিন রয়েছে। যা বেশ কিছু দিন ধরে বিকল অবস্থায় ছিল। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নিজেদের উদ্যোগে মেশিনটি কোনোভাবে মেরামত করে সচল করা হয়। যার মাধ্যমে আজকের এই অপারেশন। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন এনেস্থেসিয়া মেশিন ও ডায়াথার্মি পাওয়া গেলে অপারেশন রোগীর স্বাস্থ্য সেবা আরও বাড়ানো যাবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সব্যসাচী নাথ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান বাড়াতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা তা করতে পারছি না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরোদমে জেনারেল এনেস্থেসিয়া সেবা চালু করা গেলে সাধারণ রোগীরা উপকৃত হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে জেনারেল এনেস্থেসিয়া সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা চালু করা যাচ্ছে না। পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেল এনেস্থেসিয়ার জন্য প্রয়োজনী সব ব্যবস্থা রয়েছে। এ সেবা চালু অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।