নিউজ ডেস্ক:
ইউক্রেনে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সম্বৃদ্ধি’র ২৮ নাবিক দেশে পৌছেছেন।
বুধবার (৯ মার্চ) বেলা ১২ টার দিকে ২৮ নাবিককে নিয়ে টার্কিশ এয়ারলাইনসের টিকে-৭২২ নামের একটি বিশেষ ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) সাধারণ সম্পাদক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হোসাইন সিভয়েসকে বলেন, বাংলার সমৃদ্ধির ২৮ নাবিক নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। আজ বেলা ১২টা ২ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ববিশেষ বিমানে তারা দেশে ফিরেছেন।পাশাপাশি নাবিকরা সকলে সুস্থ আছেন।
এর আগে ইউক্রেনে আটকে পড়া জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’র ২৮ নাবিক রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্ট থেকে টার্কিশ এয়ারলাইন্স করে বাংলাদেশ সময় মধ্যরাত সোয়া ২টায় (রোমানীয় সময় সোয়া ১০টায়) দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
তবে জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার নিহত মোহাম্মাদ হাদিসুর রহমানের মরদেহ ইউক্রেনের অদূরে একটি বাংকারের ফ্রিজারে রাখা হয়েছে,সেটি সুবিধাজনক সময়ে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা রয়েছে।
এর আগে রোববার (৬ মার্চ) সকালে রোমানিয়ার হোটেলে পৌছেছেন ২৮ নাবিক। তারা রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের ওলভিয়া বন্দরের নোঙ্গর করার পরদিনই দেশটিতে রাশিয়ার সামরিক অভিযানে শুরু হলে এটি আটকে যায়। যুদ্ধের মধ্যে নাবিকরা জাহাজেই ছিলেন। গত বুধবার (২ মার্চ) একটি বোমা হামলায় জাহাজে থাকা থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমান মারা যান।
এ ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন জাহাজে আটকে পড়া বাকি ২৮ নাবিক ও ক্রু। পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টাগবোটের সাহায্যে তাদের তীরে আনা হয়। রাখা হয় ইউক্রেনের অলভিয়া এলাকার একটি বাংকারে। সেখান থেকে শনিবার পার্শ্ববর্তী দেশের দিকে রওনা দেন তারা। ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দরের কাছে একটি বাংকার হয়ে রোমানিয়ার একটি হাসপাতালের ফ্রিজারে রাখা হয় ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মাদ হাদিসুর রহমানের মরদেহ।