পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের মেঘালয় ও আসামে ভারি বৃষ্টিপাতে বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সতর্ক করে বলেছে, ক্রমাগত বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রটি জানিয়েছে, বন্যার পানির তীব্রতা বাড়ায় আগামী দুই দিনের মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের আরও ১৭টি জেলা বন্যায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। এতে প্রায় দেশের ৩৫ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, সিলেট, সুনাগমঞ্জ এলাকায় শনিবার (১৮ জুন) এবং রোববার (১৯ জুন) বৃষ্টি হবে। ফলে সেসব এলাকার বন্যার পানি আরও বাড়তে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। সেই সঙ্গে যমুনা নদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে।”
তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় তা দেশের কুড়িগ্রাম, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা থেকে প্রবেশে করে আরও এগিয়ে আসছে। ফলে জামালপুর, বগুড়া, শেরপুর, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারি ও পাবনায় বন্যা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বন্যা ছড়িয়ে পড়তে পারে। বন্যার পানি আরও নিচের দিকে নেমে এলে রাজবাড়ী, ফরিদপুর, শরীয়তপুর ইত্যাদি এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে আরও ৫৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। গত তিনদিনে এখানে প্রায় আড়াই হাজার মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে আসামে অন্তত ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার বৃষ্টির পানি বাংলাদেশের সিলেট ও কুড়িগ্রাম দিয়ে নেমে আসবে।
গত বৃহস্পতিবার ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ৯৭২ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১২২ বছরের মধ্যে রেকর্ড। এ কারণে মেঘালয় ও আসামে বৃষ্টি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি দেখছেন না দেশের আবহাওয়াবিদরা।