ভারত-পাকিস্তান মহারণ আজ 

ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ মানেই অন্য রকম উত্তেজনা। কিন্তু ৭০ বছর ধরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলা হয় না দুই দেশের মধ্যে। সফর করাও হয় না একে অন্যের ডেরায়। তাই ক্রিকেটপ্রেমীদের  এই দুই দেশের ম্যাচ দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হয় বিশ্ব এবং মহাদেশীয় প্রতিযোগিতাগুলোর। গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নয় মাস পর আজ আবারও মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই চিরশত্রু। এশিয়া কাপের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়।

পাকিস্তান-ভারত ম্যাচ সবসময় ‘মহারণের’ তকমা পেয়ে আসছে। এই ম্যাচের উত্তেজনা দুই দেশের ১৬০ কোটি জনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কার্যত পুরো ক্রিকেট দুনিয়াই এই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকে। মরুর বুকে ম্যাচটিকে ঘিরে তর্জন-গর্জন চলছে বেশ। ক্রিকেটপ্রেমীরা প্রিয় দলের সমর্থনে গলা ফাটাচ্ছেন। তবে সব আকর্ষণ লুকিয়ে ২২ গজের লড়াইয়ে।

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে গুড়িয়ে সব হিসাব-নিকাশ বদলে দেয় বাবর আজমের দল। ১০ উইকেটের বিশাল জয়ে ভারতকে মাটিতে নামান শাহীন আফ্রিদিরা। তবে ঐ ম্যাচে পাকিস্তানের তুরুপের তাস ফাস্ট বোলার শাহীন শাহ আফ্রিদি এবার দর্শক হয়ে আছেন ইনজুরির কারণে। তারপরও এক বছর আগের জয়টা উদ্দীপ্ত করছে বাবর আজমের দলকে। ব্যাটিংয়ে বাবর-রিজওয়ানের ওপেনিং জুটিই দলটির মূল শক্তি। শাহীন না থাকলেও নাসিম শাহ, হারিস রউফরা ভারতকে কাঁপাতে সক্ষম মনে করেন হেড কোচ সাকলাইন মুশতাক।

অন্যদিকে বিশ্বকাপে হারের সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারতের, সরাসরি না বললেও এশিয়া কাপে পাকিস্তানের ওপর প্রতিশোধ নিতে যে মুখিয়ে আছে ভারত, তা বলাই বাহুল্য। ইনজুরিতে সেরা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহকে না পেলেও ভারসাম্যপূর্ণ দল তাদের। টি-২০-র দুর্দান্ত সব ক্রিকেটার আছেন রোহিত শর্মার দলে। ভারতের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আজ তিন ফরম্যাটেই ১০০ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়বেন বিরাট কোহলি। ক্যারিয়ারের শততম টি-২০ তে জ্বলে উঠবে কোহলির ব্যাট, এমনটাই আশা ভারতীয়দের।

এশিয়া কাপের আগে বেশিরভাগ মানদণ্ডেই পরিসংখ্যান অবশ্য ভারতের পক্ষে। ঐতিহাসিকভাবে টি-টোয়েন্টিতে ভারতের চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে পাকিস্তান। ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম এই ফরম্যাটে দুই দল এখন পর্যন্ত ৯ বার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র দু’বার জয়ের দেখা পেয়েছে পাকিস্তান, ছয়বারই ম্যাচ শেষে হাসি ছিল ভারতীয়দের মুখে। অপর ম্যাচটি টাই। এশিয়া কাপে এই ফরম্যাটে সাক্ষাৎ হয়েছে একবার, জিতেছে ভারত।

তবে ঐতিহ্যগতভাবে পাকিস্তান-ভারত মহারণের ভাগ্য গড়ে দেয় ভারতের ব্যাটিং আর পাকিস্তানের বোলিং। দুবাইয়ে আজকের মহাকাব্যিক দ্বৈরথে শেষ হাসি কারা হাসবে তা বলা খুব কঠিন কাজ, তবে মর্যাদার লড়াইটা জমে যাক, পূর্ণ হোক ক্রিকেটীয় বিনোদন , ক্রীড়াপ্রেমিদের এটাই প্রত্যাশা।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.