চট্টগ্রামের-দোহাজারির পৌরপ্রশাসকের কু-নজরে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছে প্রতিবন্ধী পরিবার

নেপথ্যে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ-

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের দোহাজারি পৌরসভায় চলাচলের জায়গা প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় সাধারন মানুষের জায়গা দখল করে পথ তৈরীর অভিযোগ ওঠেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য জায়গা মেপে রাস্তা তৈরীর নির্দেশনা দিলেও রীতিমত তা উপেক্ষা করেন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তাও দোহাজারি পৌরসভায় প্রশাসক নাসরিন আক্তার।

 

তিনি বলেন-অভি্যোগ পুরোপুরিভাবে সত্য নয়,এখানে রাস্তা আগে থেকেই ছিল,আমরা আইনবিধি মেনেই শুধু উন্নয়ন করেছি।আর সরকারি জায়গা যদি কেউ দখল করে থাকে তাহলে আমরা আইন অনুযায়ী তা উদ্ধার করব।
স্থানীয় সাংসদের অনুরোধ উপেক্ষা করে সড়কে আরসিসি ঢালাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন-সংসদ সদস্যের অনুরোধেই আরসিসি ঢালায় দেয়া হয়েছে।

 

রবিবার(৩ই অক্টোবর)বিকালে পৌরসভার কিল্লা পাড়ায় সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে এই তথ্য পাওয়া যায়।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়-পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কিল্লাপাড়ার আব্দুর রশীদের দোকান হতে মতলবের বাড়ি পর্যন্ত পায়ে হাটার ১২৮কি:মিটার রাস্তাটির উন্নয়ন করার জন্য দরপত্র আহবান করেন পৌরসভায় প্রশাসক নাসরিন আক্তার।

 

তখন থেকেই অভিযোগ ওঠে সড়কের মূল জায়গায় প্রভাবশালীদের দখলে তারা বাড়িঘর নির্মান করে বসে আছেন।এই অবস্থায় প্রভাবশালীদের থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে বেঁছে নেয়-পার্শ্ববর্তী গরীবও প্রতিবন্ধীদের জায়গা দখল করে আরসিসি সড়ক করার জন্য,যাতে প্রভাবশালীদের শরীরে আঁচড়ও না লাগে।

 

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে সুবিচার না পেয়ে স্থানীয়রা গনসাক্ষর নিয়ে গত ১৬ই মে স্থানীয় সাংসদ নজরুল ইসলামের কাছে যান,তখন তিনি জায়গা পরিমাপ করে সঠিক ভাবে আরসিসি ঢালাই করার জন্য পৌরসভাকে বলে দেন।

 

কিন্তু এর পরেও গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ গায়ের জোরে ঢালাই এর কাজ অব্যাহত রাখলে ভুক্তভোগীরা এবং রাস্তা দখলকারীদের মধ্যে তুমুল মারামারি হয়,এর পরেও স্থানীয়রা কোন উপায় না পেয়ে গত বুধবার আইনী নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানান আদালতে,খবর পেয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশ পৌরসভায় আসার আগেই ইউএনও নাসরিন আক্তারের নির্দেশে রাতেই ঢালাই এর কাজ চালান সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারও প্রকৃত রাস্তার জায়গা দখল করে রাখা দখলবাঁজরা।

এদিকে -ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর সিরাজও প্রতিবন্ধী জরিনা আক্তার জানান-আমাদের বাড়িঘর সব গুঁড়িয়ে দিয়ে রাস্তা বানায় দিয়েছে ইউএনও নাসরিন আক্তার,অথচ আমাদের কাছে এক ইন্চিও সরকারি জায়গা নেই,আমরা বার বার অনুরোধ করেছি সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে পরিমাপ করে সরকারি জায়গায় রাস্তা নির্মান করুক,কিন্তু পৌরসভা ধনীলোকদের থেকে টাকা খেয়ে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাই কেঁড়ে নিল।

তারা আরো বলেন আমরা প্রথম ২৬শে সেপ্টেম্বর একবার নিষেধাজ্ঞা আনছিলাম পরে পুলিশ দখলকারীদের নোটিশ দিয়েছিল,তখন আবার দখলদারও ঠিকাদার মিলে লোকজন বাড়িয়ে দিয়ে আদালতের আদেশকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে স্বয়ং পুলিশ দাঁড়িয়ে কাজ করলে পরবর্তীতে আমরা তা আদালতের নজরে আনলে আদালত ২৮তারিখে পুনরায় কঁড়া আদেশ দেয়।

 

আর সেই কড়াঁ আদেশের আগেই তারা আমাদের উচ্ছেদ করে দিল।

আমরা উচ্ছে হয় ঠিক আছে কিন্তু একবার প্রশাসন মেপে দেখুক উচ্ছেদকৃত জায়গাগুলি সরকারি কী না?

আমরা দোহাজারি পৌরসভার প্রশাসকও চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা নাসরিন আক্তারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

 

এই প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মুমিনুর রহমানের বক্তব্য নেয়ার জন্য কল দেয়া হলে ফোনে পাওয়া যায়নি।

 

এদিকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা না মেনে উল্টো পুলিশ প্রহরায় রাস্তা নির্মানের বিষয়ে দোহাজারি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রবিউলের-বিরুদ্ধেও ঠিকাদার এবং রাস্তা দখলকারীদের থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে অবৈধ কাজে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে,অভিযোগ গুরুত্বর ফৌজদারী মিসমামলার স্থিতিবস্থার আদেশের নোটিশ চন্দনাইশ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন ফাড়ির ইনচার্জ রবিউলের নামে হাওলা করলেও অদৃশ্য কারণে তিনি নোটিশ জারী করেননি।

ঠিকাদারও রাস্তা দখলবাঁজ সিন্ডিকেট থেকে আর্থিক সুবিধা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দোহাজারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রবিউল বলেন-আমি কোন টাকা পয়সা কারো থেকে নিইনি এবং যথাসময়ে নোটিশ জারী করেছি,আর ওটা হলো একটা সরকারি রাস্তা।

 

 

আংশিক তথ্য/ আমাদের সময়

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.