সৈয়দ আক্কাস উদ্দিন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনকে জিম্মি করার পায়তারার অভিযোগও উঠেছে বিবিএ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. হেলাল নিজামীর বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে ।
এ ঘটনায় গত ৬ নভেম্বর ড. হেলাল নিজামীকে শোকজও করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে ৩ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও উপাচার্যের মানহানির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা জানিয়েছে, সমাবর্তন আয়োজন নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় অপ্রাসঙ্গিকভাবে সিন্ডিকেট নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন ড. হেলাল নিজামী। তিনি সমাবর্তনের আলোচনার ভেতর বারবার সিন্ডিকেট নির্বাচন নিয়ে কথা আনতে থাকেন। এ সময় উপাচার্য ‘সিন্ডিকেট নির্বাচনও হবে’ বলে সভায় উপস্থিত সকলকে আশ্বস্ত করে৷ কিন্তু এরপরও ড. হেলাল নিজামী উপস্থিত ডিন, উপ উপাচার্যসহ সকলের সামনে উপাচার্যের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে উঠে। একপর্যায়ে উপাচার্য তাকে থামতে বললেও তিনি নিজেকে সংবরণ করতে পারেননি। পরে উপস্থিত ডিনরা ড. হেলাল নিজামীকে থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় সমাবর্তন আয়োজনের মত গুরুত্বপূর্ণ এ সভা পন্ড হয়ে যায় ড. হেলাল নিজামীর কারণে।
এ ঘটনার কয়েকদিন পর ওই সভার কথপোকথনের দেড় ঘণ্টার রেকর্ডিং বের হয়। হেলাল নিজামীর এমন আচরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের অভিযোগ, হেলাল নিজামী এর আগেও উপাচার্যের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। তাঁর আচরণগুলো শিক্ষকসুলভ নয়। তিনি যেকোনো সভায় তার মতামত তুলে ধরার পরিবর্তে তা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। মুলত স্টক এক্সেঞ্জের সদস্য ছিলেন বলে তিনি তার প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়েও দেখাতে চাইছেন। কিন্তু তার ভুলে গেলে চলবে না, এটা বিশ্ববিদ্যালয়, কোনো ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান না।
বিবিএ অনুষদের একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, হেলাল নিজামীর সামনে কোনো কথা বলা যায় না। তিনি নিজেকে অনেক কিছু মনে করেন। সরকারি দায়িত্ব পালন করে এসেছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে এমন আচরণ তিনি করতে পারেন না। তার নিজেকে শিষ্টাচারের মধ্যেই রাখা উচিত। প্রায় ১০ বছর শিক্ষকতার বাইরে থাকায় তিনি শিক্ষকসুলভ আচরণ ভুলে গেছেন। তাই তার উচিত বিনয়ীতা ও শিষ্টাচার শিখে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলা।
তারা আরও বলেন, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ড. হেলাল নিজামী ৩ নভেম্বর উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছেন নিজেকে জাহির করতে। তিনি এমন আচরণ করে নিজেকে লাইমলাইটে আনতে চেয়েছেন। উনি স্টক এক্সচেঞ্জের নন একাডেমিক দায়িত্ব পালন করে এসে ‘ধরাকে সরা’ করছেন। এছাড়া পুরো সভার কথা রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেওয়া একটি পরিকল্পনারই অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপনীয়তা ভঙ্গ করা রাষ্ট্রীয় আইনেও অপরাধ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এক শিক্ষক চট্টগ্রাম সংবাদকে বলেন, ‘সমাবর্তনকে জিম্মি করতেই উঠেপড়ে লেগেছে হেলাল নিজামী। না হয় এই মিটিং তিনি এসে চিৎকার চেচামেচি করবেন কেন?’
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার চট্টগ্রাম সংবাদকে বলেন, ‘তিনি শিক্ষকসুলভ কোনো আচরণই জানেন না। কোথায় কিভাবে কথা বলতে হবে তা তিনি শিখেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মে বিশ্ববিদ্যালয় চলবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গত তিন বছরে কোনো সংকট দেখা যায়নি। উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শতভাগ চলমান। করোনা থেকে মুক্ত হয়েই সেশনজট ছাড়াই এ বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। গবেষণায় আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে। প্রশাসনিক কিংবা একাডেমিক প্রত্যেক বিষয় সুসংহত। এতে কয়েকজনের গা জ্বালা করছে। আমরা শক্ত হাতে যেকোনো অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ টিকিয়ে রাখবো।’
এসব বিষয়ে প্রফেসর ড. হেলাল নিজামীকে তার ব্যবহৃত নাম্বারে কল দিলে তিনি ফোন ধরেননি।