পটিয়া প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের পটিয়ায় ৬১ হাজার ৭শ’ ৮৯ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ান শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে সারা দেশের ন্যায় পটিয়াতেও সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৪ হাজার ৯শ’ ১৯জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৫৬ হাজার ৮শ’ ৭০ জন শিশুকে ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। উপজেলার সতেরোটি ইউনিয়ন আর একটি পৌরসভায় ৪১০টি কেন্দ্রে এ কার্যক্রম চলবে। এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৫৩ জন স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োজিত থাকবে। সকাল ৮টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কেন্দ্র গুলোতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন তারা। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুর অপুষ্টি, অন্ধত্ব প্রতিরোধ, দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত, হাম ও ডায়রিয়াজনিত মৃত্যুর হার হ্রাসসহ সকল ধরণের মৃত্যুর হার হ্রাস করে। পরিবারের রান্নায় ভিটাামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ভোজ্য তেল ব্যবহার শিশুর জন্য যথেষ্ট উপকারী। মা ও শিশুর পুষ্টির জন্য গর্ভবতি ও প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি করে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ খাবার খেতে দিতে হবে। এ কর্মসুচী সফল করতে সকল ধরণের প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। কোন শিশু যাতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাসসুল খাওয়ানো থেকে বাদ না পড়ে সে লক্ষ্যে সর্বত্র মাইকিং করে জনগণকে জানিয়ে দেয়া হবে। এছাড়াও ভ্রমণে থাকাকালীন সময়েও রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, ফেরী ঘাট ও লঞ্চ ঘাটে অবস্থিত টিকা কেন্দ্রসহ যে কোন টিকাদান কেন্দ্র থেকে শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে পারবে। ৬-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ৪ মাস অন্তর অন্তর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখতে সরকারী প্রতিষ্টান, জনপ্রতিনিধি, আনসার-ভিডিপি ও এনজিও সংস্থাগুলো কাজ করবে। সরকারী কর্মকর্তা, মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী শিশুদেরকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কাজে নিয়োজিত থাকবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারপরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সব্যসাচী নাথ জানান, ভিটামিন ‘এ’ শুধু অপুষ্টি জনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধই করে না বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল ও জটিলতা দুর করে। শিশু মৃত্যুর হার কমায়। শিশু মৃত্যুরোধে জন্মের পর নবজাতককে কেবল মায়ের শালদুধ পান করানোর পরামর্শ দেন। এছাড়া শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে সুষম খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেন উপজেলার এ স্বাস্থ্য কর্তা।