আওয়ামী লীগ জামায়াত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে ‘গরম’ চট্টগ্রাম

কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠা, আমীর ডা. শফিকুর রহমানের মুক্তিসহ ১০ দফা দাবিতে বন্দরনগরীতে আজ ২৫শে ফেব্রুয়ারি সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে জামায়াত। এর মধ্যে তারা দলের আইনজীবী নেতাদের পাঠিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে লিখিত অনুমতিও চেয়েছিল। তবে এখনো পর্যন্ত অনুমতি পায়নি তারা ।এর মধ্যে তাদের এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নগরীর ৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাহারায় থাকবে দলটির নেতাকর্মীরা। জামায়াত শিবির বরাবরের মতো নাশকতা করলে অ্যাকশানে যাবেন তারা। আর তাদের এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে নগরীতে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। নগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই পাল্টা কর্মসূচির কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিএনপি-জামায়াতের তথাকথিত সরকার উৎখাতের নামে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আগামী ২৫শে ফেব্রুয়ারি নগরের ৪৪টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড ও ১৫টি থানার আওতাধীন ৫টি স্পটে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে দারুল ফজল মার্কেটের সম্মুখ চত্বর বনফুলের সামনে, কোতোয়ালি, সদরঘাট, বাকলিয়া, ডবলমুরিং, চকবাজার, খুলশী (আংশিক) থানার আওতাধীন ৮, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫ ও ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা থাকবেন। অলংকার মোড়ে পাহাড়তলী, আকবরশাহ, খুলশী (আংশিক), হালিশহর থানার আওতাধীন ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা অবস্থান করবেন।

বায়েজিদ-পাঁচলাইশ থানার আংশিক ১, ২, ৩, ৭, ৪২, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড ও চান্দগাঁও থানার ৪, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা অক্সিজেন মোড়ে থাকবেন। ইপিজেড, বন্দর, পতেঙ্গা থানার ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা ইপিজেড চত্বরে অবস্থান করবেন। জানা যায়, এর আগে নগর বিএনপি’র বিভাগীয় সমাবেশ ও পদযাত্রা কর্মসূচির দিনেও আওয়ামী লীগ ‘শান্তি’ সমাবেশ করেছিল। তবে তখন কোনো বিবৃতি দিয়ে মাঠে নামেনি তারা। এ ছাড়া তখন তারা শুধুমাত্র এক জায়গাতেই সত্যি সত্যি ‘শান্তি সমাবেশ’ করেছিল। আর এবার তারা কাগজে-কলমে বিবৃতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি স্পটে মাঠে নামছে। আর মূলত একে ঘিরেই দেখা দিয়েছে উত্তেজনা।

তবে এই কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, আমরা কারও বিরুদ্ধে কোনো কাউন্টারে যাচ্ছি না। এটা আমাদের নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি। আজ শহরের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করবে। তবে কোনো গোষ্ঠী অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে প্রতিহত করা হবে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জামায়াতের সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে অনুমতি নিতে যাওয়া জামায়াতের আইনজীবী প্রতিনিধি দলের একজনকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। যদিও জামায়াতের একটি অংশ অনুমতি না থাকলেও অন্তত ‘ঝটিকা মিছিল’ কর্মসূচি পালন করতে চায়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, জামায়াত একটি নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক দল।সবার মতো আমাদেরও সভা সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার আছে।আমরা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলাম।পুলিশের কাছে আমরা লিখিত আবেদনও করেছি।তবে তারা আমাদেরকে এখনও পজিটিভ কিছু বলেনি।আমরা তাদের রেসপন্সের জন্য অপেক্ষা করছি।আশা করছি তারা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করবেন না।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.