রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার):
ইয়াবার বদলে মিয়ানমারে বন্দি থাকা টেকনাফের সেই যুবকের কথা কি মনে আছে? যাকে সেখানে নির্মম নির্যাতন করে যাচ্ছিলো মগরা। চারমাস পেরিয়ে গেলোও এখনো মুক্তি পায়নি সেই হতভাগ্য যুবক জসীম উদ্দীন। এখন তিনি মৃত্যুর প্রহরণ গুণছেন।জসীমকে বন্ধক রেখে ২৫ লাখ টাকার বিশাল ইয়াবা চালান এনেছিলেন ইয়াবা ব্যবসায়ী জকির।এখনো টাকা পরিশোধ না করায় মগদের নিষ্ঠুর নির্যাতনের ধুঁকে ধুঁকে মরছে জসীম। বর্তমানে তার অবস্থা অনেকটা মরণাপন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনলাইন মাধ্যমে ভুক্তভোগী জসীম জানিয়েছে, মগদের পাওনা টাকা দেবে বলে জকিরের পরিবার চারমাস ধরে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখনো এক টাকাও দেয়নি।উল্টো এখন জকির ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে প্রচার করছে তার স্ত্রী।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মিঠাপানির ছড়ার আবুল কাশেমের পুত্র জসীম উদ্দীন। চার মাস ধরে আকিয়াবে বন্দি রয়েছেন তিনি। সেখান তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে মগরা। ম্যাসেঞ্জারে নির্যাতনের কিছু ছবি ও একটি অডিও রেকর্ড পাঠিয়েছেন তিনি। ভিডিও ছবিতে তাকে নির্মম নির্যাতনের চিত্র দেখা যায়।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, জকিরের ছোট স্ত্রী শফিআরা মগদের ফোনের কথা বলছে। কিন্তু কাল দেবে, পরশু দেবে বলে বলে উল্টো মগদের ক্ষেপাচ্ছে। এতে জসীমের উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে মগরা।
ম্যাসেঞ্জারে পাঠানো বার্তায় জসিম উদ্দীন বলেছেন, গাছের ব্যবসার কথা বলে তাকে জকির মিয়ানমারে নিয়ে যায়। তখনে সেখানে কৌশলে আটকে রাখা হয়। তিনি এখন মায়ানমারে মগের কাছে বন্দি আছেন।
টেকনাফের জকির তাকে জমা দিয়ে এক লক্ষ ইয়াবার বিনিময়ে জমা দিয়েছেন। এসব ইয়াবা বাবদ মগের দাবি কৃত ২৫ লক্ষ টাকা না দেয়ায় তাকে ছাড়ছে না। এখন সে আত্মগোপনে চলে গেছে। আর পরিবার বলছে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। অভিযুক্ত জকির টেকনাফ সদরের হাজমপাড়া ৭নং ওয়ার্ডের মৃত সালেহ আহমদের পুত্র।
টাকা না পেয়ে আটক জসিম উদ্দীনকে প্রতিনিয়ত নির্মমভাবে নির্যাতন করছে মগরা। ঠিক মতো খাবার দিচ্ছে না। এতে তার শরীরের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে মৃত্যুর পাঞ্জা লড়ছে। ছবিতে দেখা গেছে, জসিমকে দ্ইু পা কাঠের কুঠরীতে আটকা, দুইহাত বেঁধে রাখা হয়েছে।
প্রতিদিন মগদের মোবাইল থেকে বার্তা পাঠিয়ে দুঃসহ জীবন থেকে মুক্তির জন্য প্রাণপণ আকুতি জানাচ্ছেন জসীম উদ্দীন। তাকে উদ্ধারে সহযোগিতায় চেয়েছেন তিনি।