বছর কয়েক আগেও ঘরের টিনের চাল দিয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়তো মেঝেতে। ঝাড়ঝোঁপ, ভাঙা জানালা দেখে অনেকটা মনে হতো পরিত্যক্ত বাড়ি। বলছিলাম, সাতকানিয়া অফিসার্স ক্লাবের কথা। দিনরাত যে অফিসাররা মানুষের ঘর গড়ে দেন তাদেরই ‘ঘর’ এমন! ভাবতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমন বেহাল অবস্থা ছিল সরকারি কর্মকর্তাদের প্রাণের এ সংগঠনের। তবে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরার নজর কাড়ে বিষয়টি। সাতকানিয়ায় কর্মরত সব অফিসারদের সঙ্গে নিয়ে নতুন করে বুনেন এ ঘর।
এক সময় কিছু ক্রীড়া সামগ্রী থাকলেও এখন সংগঠনটির হয়েছে নানা আসবাবপত্র। বছরে ছ’মাসে যেখানে অফিসারদের বিদায়-বরণ হতো সেখানে এখন দৈনন্দিন বিনোদনের ব্যবস্থা হয়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, আমি যোগদানের পর লক্ষ্য করলাম এখানে অফিসার্স ক্লাবের অবস্থা খুবই নাজুক। জরাজীর্ণ আর জঙ্গলে ভরা এ ক্লাব ভবনটি ব্যবহারের নিতান্তই অনুপযোগী। বর্ষাকালে দেখা গেল যে এ ভবনের দরজা খুলে কোন অনুষ্ঠান করাটাই মুশকিল। অবহেলিত আর দেনায় জর্জরিত এ অফিসার্স ক্লাব নিয়ে অফিসারদের মনে একটা চাপা ক্ষোভ ছিল। এ জরাজীর্ণ ভবন মেরামত করা ছিল একটা বড় চ্যালেঞ্জ। কাজ করতে গিয়ে দেখা গেলো এ ভবনের শুধু কাঠামোই আছে আর সবকিছুই নড়বড়ে। আর্থিক অপ্রতুলতার মাঝে রীতিমত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আর সকল অফিসারদের সাথে নিয়ে চললো দেনাগ্রস্ত অফিসার্স ক্লাব, সাতকানিয়ার নতুনরূপে পথ চলা।

কাজ ধরার পর ভবনের অবস্থা দেখে বারবার পিছিয়ে আসতে মন চেয়েছিল কিন্তু অফিসারদের জন্য কিছু করতে পারাটা সত্যিই আনন্দের ছিল। এ আনন্দটুকু বারবার আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। সময়ের পরিক্রমায় একদিন এ উপজেলা ছেড়ে চলে যাব কিন্তু এসব আনন্দ আমি সারাজীবনের খোরাক হিসেবে নিয়ে যাব। ছোট্ট এ জীবনে আর কি চাই!!’
নতুন এ ভবন তিনি উৎসর্গ করেছেন সাতকানিয়ায় কর্মরত সব অফিসারদের যারা তাকে এ মহৎ কর্মযজ্ঞ এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করেছেন।