নিজস্ব প্রতিবেদক
ঈদে বাবার হাত ধরে ঘুরাঘুরির কথা শিশু রাফির। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে তাকে কাতরাতে হচ্ছে হাসপাতালে। চকলেট কিনতে গিয়ে স্থানীয় সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক কামরুল ইসলামকে করা গুলি লাগে তার শরীরে। গুলিটি তার পেট ভেদ করে বেরিয়ে যায়। ফলে তার পেটের নাড়ি কেটে ফেলতে হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
আজ সোমবার(২৪শে এপ্রিল) দুপুর ১টায় মুঠোফোনে চট্টগ্রাম সংবাদকে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ.ম.ম মিনহাজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মাসুম বাচ্চাটির পিঠে গুলি লেগে পেট দিয়ে বেরিয়ে গেলে অন্ত্রনালীর দুই তৃতীয়াংশ কেটে ফেলতে হয়েছে।
বাচ্চাটির অবস্থা এখনো আশংকামুক্ত নয়, যেহেতু শিশু তার সহ্য ক্ষমতা কম তাই বাকিটা আল্লাহ জানেন।
তবে চিকিৎসকরা সাংবাদিক কামরুলসহ শিশুটিকে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে গতকাল সাতকানিয়ায় একটি ইংরেজি পত্রিকার সাংবাদিক কামরুল ইসলামসহ ২জনকে প্রকাশ্যে গুলি করেছ দূর্বৃত্তরা। দুপুরে উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কামরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজি জাতীয় পত্রিকা দি ডেইলি ইভেনিং নিউজ পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো হিসেবে কর্মরত আছেন।বিভিন্ন সময় সাতকানিয়া এলাকার মাটিকাটা, বালু উত্তোলনসহ ইয়াবার বিরুদ্ধে লেখালেখি করায় একটি মহল তার বিরুদ্ধে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। ঈদের ছুটিতে অফিস শেষে বাড়িতে আসলে চিহ্নিত একটি চক্রের রোষানলে পড়লে দূর্বৃত্তরা এই হামলা চালায়। সাংবাদিক কামরুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি গুলি করার সময় একটি শিশু আহত হয়।
আহত সাংবাদিক মাষ্টার কামরুল এবং শিশুটির অবস্থা আসংকাজনক হলে সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। আহতরা এওচিয়ার গাটিয়াডেঙ্গা এলাকার মৃত এম এ হাসানের ছেলে অপরটি একই এলাকার রহিমের ৫বছরের শিশু।
এদিকে সাতকানিয়ার জনমুখে বলতে শোনা যাচ্ছে শিশুসহ এমন একটি বর্বর ঘটনা ঘটেছিল এওচিয়ায় ২০১৩সালে জামায়াত শিবিরেট তান্ডবের সময় এওচিয়াস্থ চূড়ামনির আশ্রয়ন প্রকল্পে।
সাতকানিয়া থানার ওসি ইয়াসির আরাফাত বলেন, সাংবাদিক কামরুলকে যে বা যারা হামলা চালাবে চালাক সবাইকে গ্রেফতারের জন্য ইতিমধ্যে আমরা সবাই মাঠে নেমেছি।