পটিয়া প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের পটিয়ায় গৃহবধূ জেরিন আকতারের (২২) মৃত্যুর রহস্য এখনো জানা যায়নি। এঘটনায় নিহতের মামা বাদি হয়ে তিন জনকে আসামি করে পটিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
গতকাল সোমবার রাতে লাশ ময়নাতদন্তের পরে তার বাপের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর লাশটি নিয়ে আসা হয় তার বাপের বাড়ি উপজেলার ছনহরা ইউনিয়নের আলামদার পাড়া এলাকার মটপাড়া গ্রামে। এসময় নিহতের স্বজনদের গগনবিদারী কান্নায় আকাশ ভারি হয়ে উঠে। জানাজায় উপস্থিত আত্মীয় সজন গৃহবধূ জেরিন আকতারের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে নিহত গৃহবধূ জেরিন আকতারের নামাজে জানাজা আলামদার পাড়া বায়তুল জামে মসজিদের মাঠে সোমবার মাগরিবের নামাজের পর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা আবদুল মজিদ আল কাদেরী। এরপর রাতেই স্হানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। তবে সেখানে নিহতের শশুর বাড়ির লোকজন কেউ উপস্থিত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
নিহত গৃহবধূর মামা ও উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ রিদোয়ান বলেন, আমরা এ ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছি । পুলিশ আমাদের এ ঘটনায় সব ধরনের সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। আশা করি আমরা এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচার পাব।
রবিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের শেখ মোহাম্মদ পাড়ার শশুর বাড়িতে নিজ ঘর থেকে গলায় রশি পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধূ জেরিন আকতারের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই নিহত গৃহবধূর প্রবাসী স্বামী দিদারুল আলম সহ পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার ছনহরা ইউনিয়নের আলমদার পাড়ার মটপাড়া গ্রামের আমির আলমদারের বড় মেয়ে জেরিন আকতারের বিয়ে হয় একই উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের শেখ মোহাম্মদ পাড়ার মৃত সালামত আলী খানের দুবাই প্রবাসী ছেলে দিদারুল আলমের সাথে ২০২০ সালের মার্চে করোনাকালীন সময়ে। রবিবার গৃহবধূ জেরিন আকতারের শ্বশুর বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
গত রবিবার দশটার সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করেছেন ওসি প্রিটন সরকার, ওসি (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম, উপ পরিদর্শক বিভাস কুমার সাহা সহ পুলিশের একটি টিম। এসময় তারা লাশটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশটির ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছিলেন।
এদিকে নিহত গৃহবধূর পরিবার সূত্রে জানা যায়, করোনাকালীন সময়ে বিয়ে হওয়ায় বিধি নিষেধের কারণে সামাজিক ভাবে অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। তখন কথা ছিল পরবর্তী সময়ের যে কোন দিন বেয়াই ভাতা স্বরুপ বরপক্ষের লোকজনকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো হবে। এ নিয়ে তাদের মেয়েকে বিভিন্ন সময় শশুর বাড়ির লোকজন জ্বালাতন করতেন।
পটিয়া থানার ওসি প্রিটন সরকার জানান, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা রেকর্ড হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাইফুল ইসলাম জানান,গৃহবধূ জেরিন আকতার নিহতের ঘটনায় তিনজন কে আসামি করে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।