সভানেত্রীর কার্যালয়ের সামনে আলী আকবর ছিদ্দিকীর অনশন

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির বিরুদ্ধে

 

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান না দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ধানমন্ডি আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর কার্যালয়ের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন সাবেক ছাত্রনেতা আলী আকবর ছিদ্দিকী।

বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে
সদ্য ঘোষিত “চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে জামাত- শিবির, বিএনপি ও দলছুট দুর্বৃত্তরা পদ-পদবী পেয়েছে অথচ দলে দুর্দিনের আদর্শিক ত্যাগি নেতারা পদ পদবী থেকে বঞ্চিত” শীর্ষক ব্যানার টাঙিয়ে তিনি এই অনশন কর্মসূচি পালন করেন। আলী আকবর ছিদ্দিকী ব্যানারে আরও উল্লেখ করেন আওয়ামী রাজনীতিতে আমার সুদীর্ঘ ৪৪ বছরের শ্রম, ঘাম-রক্ত, জেল-জুলুম, আন্দোলন সংগ্রামের সন্মানজনক স্বীকৃতির দাবীতে “আমরণ অনশন” ।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে পুনরায় মোছলেম উদ্দিন আহমেদকে সভাপতি এবং মফিজুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ৬ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন মোছলেম উদ্দিন আহমেদ। এরপর গত ২২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা দেন।

গত ৪ সেপ্টেম্বর দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন। ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির কয়েক জনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রবীন ও ত্যাগী নেতারা। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দিনের ত্যাগী নেতারা অভিযোগ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের ত্যাগীনেতাদের বাদ দিয়ে বিএনপি, জামায়াত-শিবির ও আদর্শহীন বেশ কয়েকজন নব্য আওয়ামী লীগ নিয়ে কমিটি করা হয়েছে। কমিটি ঘোষণার পরপরই রাগ এবং ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন গত কমিটির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক একেএম আবদুল মতিন চৌধুরী সহ আওয়ামী লীগের ত্যাগী কয়েকজন নেতা। এতে স্থান পেয়েছেন নৌকা ডুবিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া বিদ্রোহী প্রার্থীসহ সাঈদী ভক্তরাও। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের দায়ী করছেন পদবঞ্চিত ত্যাগী নেতাকর্মীরা। একইসঙ্গে কমিটি গঠনে দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও উঠেছে।

রাজধানী ঢাকায় সভানেত্রীর কার্যালয়ের সামনে অনশনকারী আলী আকবর ছিদ্দিকী আপাদমস্তক একজন লড়াকু মুজিব সৈনিক। ১৯৮৭ সালে দলের চরম দু:সময়ে পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সক্রিয় দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৯১ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সর্ব কনিষ্ঠ সদস্য হন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আবারও সদস্য নির্বাচিত হন (৯৪-৯৬)।

অনশনকারী আলী আকবর ছিদ্দিকী জানান, আমি ধানমন্ডি সভানেত্রীর কার্য্যালয়ের সামনে দীর্ঘ ৪৪ বৎসরের রাজনীতির স্বীকৃতির জন্য আমরন অনশনে বসেছি। ছাত্রলীগ আওয়ামিলীগকে সংগঠিত করার জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করেছি ।
সদ্য ঘোষিত চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা কমিটিতে জামাত শিবির বিএনপি আর দল ছুট দুর্বৃত্তরা পদ পদবী পেয়েছে অথচ আজ আমার মত অনেকেই পদ পদবী থেকে বঞ্চিত। শুধুমাত্র ব্যক্তি দল ভারী করার জন্য এটা করা হয়েছে। এই কমিটিতে এমন কয়েকজন কে দেখা যাচ্ছে যারা ২০০৮ সালের আগে কখনোই আওয়ামী লীগের সাথে ছিলো না। তাদেরকে রাজনীতির মাঠে কোন দিন দেখিনি।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে দুর্বল করতেই পরিকল্পিতভাবে দীর্ঘ দিনের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা পদ বাগিয়ে নিয়েছে। একজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হয়ে এটা মেনে নিতে পারি না।
দলের জন্য ত্যাগ ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি পেতে পদের আশায় মুখিয়ে ছিলাম।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করা কয়েকজনকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।দল থেকে বিদ্রোহীদের ক্ষমা করা হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে অবহিত করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর সাঈদীর পোস্টদাতার বিষয়ে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি। এটার সত্যতা পেলে তাকে বাদ দেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যান সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন জানান, আলী আকবর ছিদ্দিকী ত্যাগী নেতা সেটা স্বীকার করতে হবে। তবে তিনি পদে আসতে আগ্রহী আগে থেকে জানানো হয়নি। কাদের ভাইয়ের নির্দেশে আমি আলী আকবর ছিদ্দিকীকে অনশন বন্ধ করার অনুরোধ করি। কাদের ভাই কে তাকে দলে মূল্যায়ন করার আশ্বাস দেন।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.