সাতকানিয়ার চরতীতে ঘর বরাদ্দের টাকা চাওয়ায় মারামারি 

আহত পাওনাদার দেলোয়ার ও চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ

সাতকানিয়া প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিতর্কিত ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল্লাকে তার নিজ কার্যালয়ে পিটিয়েছে এলাকার মানুষজন। সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার চরতী ইউনিয়ন পরিষদের ভেতর এ ঘটনা ঘটে। আহত রুহুল্লা বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জেনেছি চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ সরকারি ঘর দেবেন বলে দেলোয়ার নামের এক ব্যক্তি থেকে ৪৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। ওই টাকার জন্য দেলোয়ার ইউনিয়নে গেলে চেয়ারম্যান তাকে মারধর করেন। পরে দেলোয়ারের লোকজনও চেয়ারম্যানের উপর হামলা করে। আমিসহ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, চরতী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের চেয়ারম্যানের কক্ষে সোমবার দুপুরে চেয়ারম্যান মো. রুহুল্লাহ চৌধুরী দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড  দুরদুরি এলাকার মো. ইউনুসের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৭) চেয়ারম্যান রুহুল্লাহর নিকট গিয়ে তাকে সরকারি বরাদ্দকৃত ঘর দেওয়ার জন্য নেওয়া ৪৫ হাজার টাকা চেয়ারম্যানের নিকট হতে ফেরত চায়। এ সময় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান দেলোয়ারকে মারধর করেন।
দেলোয়ার আহত হওয়ার খবর পেয়ে তার গ্রামের লোকজন ও স্বজনেরা এসে চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ চৌধুরীকে লাঠিপেটা করে। এতে চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ চৌধুরী রক্তাক্ত জখম হন।
জানা গেছে দেলোয়ার হোসেন ও চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ উভয়কে তাদের স্বজনরা উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন।
এদিকে দেলোয়ার চেয়ারম্যান রুহুল্লাহকে প্রধান আসামী করে মোট ৫জনের বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছে পাওনাদার দেলোয়ার
সাতকানিয়ার চরতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুহুল্লাহ চৌধুরীকে নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশ পালন না করা এবং অর্পিত সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে সরকারি সম্পদের ক্ষতি সাধন করায় তাকে গত ২০ জুন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ইউপি–১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমীন প্রধান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ দিয়েছিলেন।
বহিস্কৃত রুহুল্লাহ চৌধুরী তার কৃত কর্মের জন্য ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করায় ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বের জারিকৃত বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয় ২ আগস্ট ২০২৩।
রুহুল্লা চৌধুরী জামায়াতের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মোমিনুল হক চৌধুরীর ছেলে। সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে পরাজিত আবু রেজা নেজামুদ্দিন নদভীর শ্যালক। গত ইউপি নির্বাচনে তার প্রতিপক্ষ প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা মঈনুদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করেছিলেন দুলাভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে রুহুল্লা চেয়ারম্যান হয়েছেন এবং তাদের হাতে এলাকার স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি নির্যাতিত।
 ওসি প্রিটন সরকার বলেন,  পাওনাদার দেলোয়ারের সাথে এই ঘটনা ঘটে এবং দেলোয়ার একটি অভিযোগও জমা করেছেন এটা   আমরা তদন্তপূর্বক  আইনী ব্যবস্থা নেবো।
মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.