বান্দরবান টংকাবতী রেঞ্জ: সুয়ালক কাম চেক স্টেশন ইনচার্জের চলছে এখন লাকড়ীও ফার্নিচার বানিজ্য

সুয়ালক স্টেশন এখন যেন অবৈধ ইনকামের করিডোর

 

সৈয়দ আককাস উদদীন, চট্টগ্রাম থেকে –

বান্দরবান সুয়ালক কাম চেক স্টেশনের ইনচার্জ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে পাহাড় ও গাছের গাড়ী থেকে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠেছে।

আবুল হোসেনের আওতাধীনের ফার্নিচার ও গাছ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে কাঠ ও ফার্নিচারবাহী গাড়ী থেকে দৈনিক প্রায় ৩/৪লক্ষ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠেছে এই স্টেশন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ ওঠেছে বান্দরবান ও তার আশপাশের এলাকা থেকে ছেড়ে আসা গাড়ীর একমাত্র করিডোর হচ্ছে সুয়ালক, আর ওই সুয়ালকের স্টেশন কর্মকর্তা হিসেবে মাত্র ২মাসেই নিজের ভাগ্যের অভিনব পরিবর্তন ঘটান সুয়ালকের চেকও কাম স্টেশনের এই কর্মকর্তা।

জানা গেছে, সুয়ালক গোয়ালিয়া খোলা, হলুদিয়া কাঁইচতলী এলাকা থেকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও আশেপাশের ইটভাটায় প্রতিদিন শত শত গাড়ী লাকড়ী এবং সাতকানিয়া তথা বৃহত্তর চট্টগ্রামে যাচ্ছে বড় বড় কাটা গাছের ট্রাক।

চেক স্টেশন কর্মকর্তা মাসিক এবং দৈনিক চুক্তিতে এসব গাড়ী থেকে বড় অংকের টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।

এবং স্টেশন কর্মকর্তার অধীনে পাহাড় কেটে স্থানীয় একটি চক্র মাটি পাচার করছে স্টেশন কর্মকর্তার যোগসাজশে, সেখান থেকেও বিরাট অংকের একটি লেনদেন হয় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

সুয়ালক কাম চেক স্টেশনটি বান্দরবান বন বিভাগের অন্তর্গত বান্দরবান জেলার সদর উপজেলার টংকাবতী রেঞ্জের অধীনে অবস্থিত।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত বান্দরবান সুয়ালকের কামও চেক স্টেশন কর্মকর্তা আবুল হোসেনকে কল করা হলে তিনি এই সমস্ত বিষয়টি সঠিক নয় এবং উক্ত স্টেশনে তিনি নতুন বলে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

এবং সাংবাদিককে বক্তব্য দেয়ার কথা জানালে তিনি বার বার নিজেকে অসুস্থ দাবী করেন,এবং একবার স্ট্রোক করেছেন বলেও জানিয়েছেন।
এবং প্রতিবেদক অফিস থেকে একটি ভিডিও বক্তব্য নেয়ার জন্য বেশকয়েকবার চেষ্টা চালালেও তিনি প্রতিবারই চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাকে (আবুল হোসেন)তথ্যের জন্য কোন সাংবাদিক কল করলে তিনি ফোনে বক্তব্য দেননা এবং অসুস্থতার কথা বলে সাংবাদিক থেকে উল্টো দোয়া চেয়ে লাইন কেটে দেন।

খোঁদ তার অফিসের বিশেষ সূত্রে জানা যায়, ইনচার্জ আবুল হোসেন সুয়ালক বিট অফিসে বসেননা -এবং বিভিন্ন অবৈধ খাতের তদারকি করেই দিন পার করেন।

এদিকে বান্দরবান বনবিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেদককে বলেছেন, এই স্টেশনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং মাসে এক থেকে দেড়কোটি টাকা ইনকাম করা একজন স্টেশন কর্মকর্তার পক্ষে কোন বিষয় না।

তাই উক্ত স্টেশনে যেতে উপর মহলে বিভিন্ন ভাবে তদবিরও করা লাগে।

সেই সূত্রে অবৈধ ইনকামের জন্য তদবির করেই আবুল হোসেন ওই স্টেশনে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

 

এই বিষয়ে বান্দরবান বন বিভাগের, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম বলেন,ভাই আমি নতুন আসছি এই সংক্রান্ত অভিযোগ আমি এখন শুনলাম।

আমি এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি,এখনি বিষয়টি দেখতেছি।

এদিকে টংকাবতী রেঞ্জ অফিসার রাফি উদ্দৌলা সরদারকেও এই স্টেশন থেকে মাসোহারা দিতে হয় বলে সূত্র প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।

ফলে বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতী রেঞ্জ অফিসারের আস্কারায় দেদারসে গাড়ী বানিজ্যের সুযোগ পাচ্ছেন  সুয়ালক কাম চেক স্টেশন কর্মকর্তা আবুল হোসেন।

 

উল্লেখ্য: একই অভিযোগে চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকাও তার বিরুদ্ধে সংবাদ ছাপিয়েছিল।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.