নির্বাচনী ব্যস্ততাকে পুঁজি করে বিলীন হচ্ছে মিরসরাইয়ের করের হাট রেঞ্জের পাহাড়

পানির শ্যালো মেশিন দিয়ে নরম করে উত্তোলন হচ্ছে বালি

সৈয়দ আককাস উদদীন  চট্টগ্রাম থেকে

চট্টগ্রাম বন বিভাগ উত্তরের আওতাধীন মিরসরাই উপজেলার করের হাট রেঞ্জের পাহাড় কাটা থেকে শুরু করে ছড়া কাটা ও অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।

 

আসছে ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন, তাই দেশের সব সংস্থা ও প্রশাসন ব্যস্ত।সেই ব্যস্ততাকে পুঁজি করেই পাহাড় খেকো ও বালু খেকোরা বেশী শ্রমিক লাগিয়ে আগের তুলনায় বেশী ছড়া কেটে বালু উত্তোলন এবং পাহাড়ের মাটি কেটে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে বলে জানা যায়।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের সামনের খীল   এলাকায় অবৈধ ভাবে পাহাড়ে শ্যালো মেশিন বসিয়ে পাহাড় কাটার ধুম চলছে।

স্থানীয়রা জানান, সামনে নির্বাচন তাই প্রশাসনের ব্যস্ত সময়কে কাজে লাগিয়ে রাতে দিনে চালিয়ে যাচ্ছে পাহাড় কাটার কাজ।

এই বিষয়ে করের হাট রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহাদী হাসান বলেন,তিনি এই মাসের প্রথম তারিখেই যোগদান করেছেন করের হাট রেঞ্জে এবং তিনি বর্তমানে ঢাকায় আছেন।
তবুও তিনি বিষয়টি ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদকে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে করের হাট রেঞ্জের সামনের খীল এলাকার বিট কর্মকর্তা মো: আলাল বলেন,পাহাড় কাটা আগে যা হয়েছে ওদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা হয়েছে এবং সবার বিরুদ্ধে পুলিশ কেসও আছে চাইলে আপনাকে কপি দিতে পারি।

তারপরও আপনি আসলে আপনাকে মোটর সাইকেল নিয়ে স্পটে নিয়ে স্ব শরীরে দেখাতে পারব।
এখানে আমাদের চেষ্টার কোন কমতি নেই।

 

এদিকে একটি তথ্যে দেখা যায়,  গত ৩রা ডিসেম্বর স্থানীয় পাহাড় খেকো মো: মাসুদ প্রকাশ কালা মাসুদ পাহাড়ে শ্যালো মেশিন লাগিয়ে পাহাড় ধ্বংস করে বালি উত্তোলন করার খবর পেলে, করের হাট বিট এর স্টেশন কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার মো:আলাল উদদীন ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় ভাবে ও বনবিভাগের চিহ্নিত পাহাড় খেকো মাসুদ প্রকাশ কালা মাসুদ(২৬) ডেপুটি রেঞ্জার মো: আলাল উদদীনসহ তার সাথে থাকা সাক্ষীদের মারধর করেন।

 

ঘটনায় চিকিৎসা শেষে ডেপুটি রেঞ্জার বাদী হয়ে বন মামলা এবং থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছে সেই কালা মাসুদের বিরুদ্ধে।

এদিকে আরেকটি তথ্যে দেখা যায়, বনবিভাগের তালিকাভুক্ত পাহাড় খেকো এই  কালা মাসুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন এবং সেগুন গাছ কর্তন ও পাহাড় কাটাসহ পরিবেশ ও বন আইনে অন্তত ৮/১০টি মামলা রয়েছে।

 

স্থানীয়রা প্রতিবেদককে জানান, এই কালা মাসুদকে দমন করা না গেলে করের হাট এলাকার কোন পাহাড় আর পাহাড় থাকবেনা এবং পাহাড় কেটে সমতলভূমি হতেও সময় লাগবেনা।

মিরসরাইয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া আক্তারকে কল করা হলে ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি, তবে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে এই বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে আবার কিছু স্থানীয়রা প্রতিবেদককে ভিন্ন তথ্যও দিয়েছেন, নির্বাচনী ব্যস্ততা আর ফ্রী এটার কোন মানে হয় না।

প্রকৃত কথা হচ্ছে করের হাট রেঞ্জ  কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তাও কর্মচারীদের সাথে একাধিক  পাহাড় খেকো আর বালি খেকোদের দহরমমহরম সম্পর্ক।

ফলে তাদের মৌনসম্মতি ছাড়া এসব করা সম্ভব নয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.