সুফল প্রকল্প ও বাগান পাহারায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ডেপুটি রেঞ্জার মিনার চৌধুরীর বিরুদ্ধে

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের হোয়াইক্যং-

 

সৈয়দ আককাস উদদীন, চট্টগ্রাম থেকে 

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের হোয়াইক্যং রেঞ্জে বনাঞ্চল ধ্বংসের মহোৎসব চলছে। বনরক্ষক ও একটি ভূমিখেকো সিন্ডিকেটের যোগসাজশে অবাধে চলছে পাহাড় কাটা। এতে বনরক্ষকরাই বন উজাড় ও ধ্বংস করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

হোয়াইক্যং রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি রেঞ্জার জহির উদদীন মো: মিনার চৌধুরীর যোগসাজশেই কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন বন ধ্বংস, পাহাড় কাটা, বনভূমি বিক্রি ও ঘুস বাণিজ্য চলছে প্রকাশ্যে। হোয়াইক্যং রেঞ্জের মনখালীবিটসহ পুরো রেঞ্জের অধীন এলাকাজুড়ে চলছে হোয়াইক্যং এর ঝাউগাছ নিধন, পাহাড় কেটে সমতল ভূমি তৈরি, বনভূমি দখল ও বেচাকেনা, অবৈধ করাতকল পরিচালনা, বালু ও মাটি উত্তোলন এবং বনভূমিতে নতুন ঘর নির্মাণ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত করার জন্য জহির উদদীন মিনার চৌধুরীর নেতৃত্বে রয়েছে একটি চক্র।

একই রেঞ্জে তিনি ২০২০সাল থেকেই আছেন বলে বনবিভাগ সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, জহির উদদীন মো: মিনার চৌধুরী একই স্টেশনে ৫বছর যদিও বিধিমতো রেঞ্জ বদলী ২বছর পর পর হয়।

তার আমলে গত ৩বছর সময়ে সুফল প্রকল্প ও ইএমসিআর প্রকল্প, সবুজ বেস্টনী প্রকল্প, হেল্প প্রকল্প রাজস্বখাতে বাগান প্রকল্প এবং আগাছা পরিস্কার ও জঙ্গল পরিস্কার,বাগান পাহারা বাবদ প্রায় ৫০কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে।
এই বিষয়ে ডেপুটি রেঞ্জার মিনার চৌধুরী বলেন-আমি ডেপুটি রেঞ্জার হিসেবে দায়িত্বে আছি মাত্র ৩বছর তবে এর আগেও এই রেঞ্জের অধীনে ছিলাম তবে দায়িত্বে ছিলাম না।আমার গত ৩বছরের সুফল প্রকল্প হয়েছে ৪০০ হেক্টর। EMCR প্রকল্প কত হেক্টর? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি (মিনার চৌধুরী)শুধু মাত্র  ৫০ হেক্টর বলে জানান।

সবুজ বেস্টনীর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তার আমলে সবুজ বেস্টনী নেই বলেও জানান।

হেল্প প্রকল্প কত হেক্টর? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি (ডেপুটি রেঞ্জার মিনার চৌধুরী) ৪০হেক্টরের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।

রাজস্ব খাতে বাগান তার আমলে একদম হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

উপরোক্ত বিষয়াদীতে সে কত টাকা উত্তোলন করছে গত ৫বছরে? মিনারের বক্তব্য হচ্ছে টাকা তো অনেক তোলা হয়েছে তবে হিসাব নেই।

উপরোক্ত বাগানের আগাছা বাছাই,রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ কত তুলছে? হোয়াইক্য’র ডেপুটি রেঞ্জার মিনার চৌধুরীর স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে  টাকা তোলা হয়েছে তবে খরচ হয়ে গেছে,কি পরিমাণ খরচ করছি হিসাব নেই।

প্রতিবেদক, বাগান পাহারা বাবদ প্রতিমাসে কত উত্তোলন করছেন অতিরিক্ত পাহারাদার বানিয়ে টাকা উত্তোলনের ব্যাপক অভিযোগ আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি( মিনার চৌধুরী) বলেন প্রতিমাসে নয় ৩মাস ৬মাস পর পর করে তুলেছি, শুধু তাই নয় ৩মাস পর পর জঙ্গল কাটার জন্যও বড় অংকের টাকা উত্তোলন করছে।
জঙ্গল সাফ এর বিষয়ে টাকা উত্তোলন স্বীকার করলেও কত উত্তোলন হয়েছে হিসাব নেই বলে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ এর হোয়াইক্যং রেঞ্জ কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার জহির উদদীন মো: মিনার চৌধুরী।
তিনি আরো বলেন,আমি চাচ্ছি এখান থেকে বদলী হয়ে চলে যেতে আপনি পারলে বদলি করে দেন।
তার এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিবেদক অনুসন্ধান চালাতে থাকে, তখন দেখা যায় তিনি(রেঞ্জার মিনার)এই অঞ্চলে ৫০/৬০কোটি টাকা কামিয়েছেন, ওটা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব শুরু করাতেই দীর্ঘ ৫বছর পর নিজেই কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ ত্যাগ করতে চাচ্ছেন।

সুফল প্রকল্প বাগান পরিমাপ করার জন্য ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে লোকও এসেছেন বলে তিনি(ডেপুটি রেঞ্জার মিনার চৌধুরী) প্রতিবেদককে জানান।

 

সূত্রে জানা যায়, পাহাড় কাটা,এবং পাহাড়ের জায়গায় নতুন ঘর বাধা ও অবৈধ করাতকল থেকে এবং ক্ষেত্র বিশেষে দালান থেকে বেছে বেছে নির্দিষ্ট অর্থ আদায় করেন ডেপুটি রেঞ্জার জহির উদদীন মিনার চৌধুরী।

স্থানীয়রা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন এই ডেপুটি রেঞ্জারের মূল ব্যবসা হচ্ছে পাহাড় কেটে সমতলভূমি তৈরীতে সহযোগিতা করা।

এই অঞ্চলে জনশ্রুতি রয়েছে, হোয়াইক্যং রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার জহির উদদীন মো: মিনার চৌধুরী হচ্ছে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সাবেক ডিএফওদের অনেকের এলাকার ও ঘনিষ্ঠ বিধায় এতদিন থাকার সুযোগ পেয়েছেন।কুমিল্লা অঞ্চলের এক ডিএফও’র বদান্যতায় সমুদ্র নগরী কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগে তার বেপরোয়া আচরণের আবির্ভাব ঘটেছিল বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

ফলে তার সকল অপকর্মগুলিও দক্ষিণের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টিতে আছেন বলে জানা যায়।

 

হোয়াইক্যং এর পাহাড় কেটে সমতলভূমি তৈরীর বিষয়ে ডেপুটি রেঞ্জার মিনারের যোগসাজশের বিষয়ে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ এর বিভাগীয় কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,এই আপনার অভিযোগ আমি শুনেছি বিষয়টি আমি দেখতেছি। আর বাগান কতটুকু বরাদ্দ হয়েছে এই বিষয়ে আমি আসছি নতুন তাই বিস্তারিত জানিনা ।
তবে কতটুকু করেছেন ও পাহারাদারদের খরচ কেমন গেছে ওগুলো অফিসের নথি দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একই রেঞ্জের বিষয়ে তিনি বলেন ডেপুটি রেঞ্জ পদে তিন বছর থাকা যায় দুই বছর নয়।

 

চলমান পর্ব-০১

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.