ডিএফও’র যোগদানের মাত্র ২ মাস: রেঞ্জার শরীফুল ইসলাম দায়ের করেছেন ২৬টি বন মামলা
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ,পানের ছড়া রেঞ্জ বাঁচাতে মোট ৪০টি বন মামলা
সৈয়দ আককাস উদদীন, চট্টগ্রাম থেকে
কক্সবাজারের দক্ষিণ বনবিভাগের রামুর পানের ছড়া রেঞ্জে অল্পসংখ্যক জনবল নিয়েও পাহাড় আর বনের কাঠ বাঁচাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন রেঞ্জ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম।
কক্সবাজার দক্ষিন বনবিভাগের স্থানীয়দের মধ্যে এখন একটা একটা কথা শোনা যাচ্ছে-ডিএফও আব্দুল্লাহ আল মামুন যোগদান করার পর থেকেই পুরো দক্ষিণ বনবিভাগ যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।তার মধ্যে অন্যতম দক্ষিণ বনবিভাগের পানের ছড়া রেঞ্জ।
মোট এক বছরের অভিযান ও মামলা:
বিভিন্ন নথিপত্র ঘেঁটে এবং বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লা আল মামুনের নির্দেশনা অনুযায়ী পানেরছড়া রেঞ্জের পানেরছড়া বিটের চাইল্লাতলী, কাটিরমাথা, হোয়ারীঘোনা, সমিতি পাড়া, লম্বাঘোনা, জামবাগান সহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি সংরক্ষিত বনে বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে পাহাড় কাটা,এবং জবরদখল ও গাছ কাটার অপরাধে ২০২৫_২৬ অর্থ বছরে জানুয়ারি /২০২৬ পর্যন্ত পানেরছড়া রেঞ্জের অধীনে মোট ৪০ টি বন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এসব মামলার বিপরীতে আসামীর সংখ্যা ৭৫ জন।
অভিযানে ও মামলায় জব্দ
এ সকল মামলায় জব্দ করা হয়েছে প্রায় ১টি ড্রেজার মেশিন, ২০ টি পাইপ, ৭০ ঘন ফুট কাঠ, ৬০ টি বল্লী, ১৫০ ঘন ফুট জ্বালানি কাঠ, কোদাল, বেলচা সহ নানা সামগ্রী।
শুধু ২মাসে আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে
তার মধ্যে বর্তমানে অবস্থানরত কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন গত নভেম্বর মাসে যোগদান করার পর শুধু মাত্র চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ২৬ টি বন মামলা দায়ের করা হয়েছে। যা আশ্চর্যজনক হলেও বনবিভাগের অভিযানের নথিপত্রের প্রমাণে এমনটাই দেখা মেলে।
আরো জানা যায়, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক, সদরের নির্দেশনা অনুযায়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শরীফুল আলম, উক্ত রেঞ্জে বন অপরাধ দমনে নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে ও বনবিভাগ সূত্রে আরো জানা যায়, চাইল্লাতলী এলাকায় পাহাড় কাটার অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গত ৩ মাসে ৮ টি বন মামলা দায়ের করা হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে বিগত সময়ে আরো একাধিক বন মামলা বিজ্ঞ আদালতে চলমান রয়েছে।এবং সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কি কারণে রেঞ্জার শরীফুল বনদস্যুদের আতংক :
এদিকে লম্বাঘোনা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মামুন বলেন,রেঞ্জার শরীফুল বেশী অভিযান চালায়,মূলত এই রেঞ্জে তিনি আসার পর থেকেই এই এলাকার অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ী ও মাটি বালি ব্যবসায়ীদের একাধিক সিন্ডিকেট তার প্রতি ক্ষুদ্ধ।