লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই কাটা হচ্ছে টিলা

পাহাড় কাটা আর টিলা কাটার বিষয়ে প্রশাসন জানলেও হয়না সঠিক পদক্ষেপ -

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট 

লোহাগাড়ায় রাতের আঁধারে টিলা কেটে মাটি বিক্রি
টিলাটির উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট। ফলদ, বনজ, ভেষজ গাছগাছালি আর লতাপাতা-গুল্মে ভরা টিলাটি যেন পাখিদের আশ্রয়স্থল। লোকালয় থেকে দূরে নির্জন এলাকায় অবস্থিত এই টিলা এখন ধাপে ধাপে কেটে ফেলা হচ্ছে। রাতের আঁধারে এক্সক্যাভেটর দিয়ে কেটে বিক্রি হচ্ছে টিলার মাটি।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নে অবস্থান এই টিলাটির। এটি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘কালুনির বর পাহাড়’ নামে। সরকারি এ টিলাটি অবস্থিত প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে। তবে এরই মধ্যে এর প্রায় ২০ শতক কেটে ফেলা হয়েছে।

গত শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিলাটির আশপাশে কোনো বসতি নেই। তবে টিলার পাদদেশে অন্তত ৮টি মাছের খামার আছে। টিলাটির দক্ষিণ পাশে এক্সক্যাভেটর দিয়ে মাটি কাটার চিহ্ন রয়েছে। কেটে নেওয়া কিছু গাছপালাও সেখানে পড়ে আছে।

বাসিন্দারা নাম জানান, সরকারি টিলাটি স্থানীয় আবদুস সালাম নামের এক ব্যক্তির দখলে ছিল। বর্তমানে সেটি পহর চাঁন্দা গ্রামের বাসিন্দা আবছার উদ্দিন নামের আরেক ব্যক্তির দখলে রয়েছে। টিলার পাশের খামারগুলো পরিচালনা করেন আবছার উদ্দিন।

প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রায় এক বছর ধরে ধাপে ধাপে রাতের আঁধারে টিলাটি কাটা হচ্ছে। আবছার উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে টিলাটি কাটা হচ্ছে এক মাস ধরে। সাধারণত রাত ১২টার পর টিলার মাটি কেটে বিক্রি করা হয়। ভিটেবাড়ি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের জন্য অনেকেই এসব মাটি কিনে নিয়ে যান।

জানতে চাইলে আবছার উদ্দিন বলেন, টিলা কাটায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা নেই। এলাকার কারও জায়গা ভরাটের প্রয়োজন হলে তাঁরা নিজেরাই টিলার মাটি কেটে নিয়ে যান।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ৬ (খ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারি বা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করতে পারবে না। তবে অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে পাহাড় বা টিলা কাটা যেতে পারে।

লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনোভাবেই পাহাড়-টিলা কাটা যাবে না। আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে টিলা কাটায় জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেব।’

এদিকে পাহাড় কাটস আর টিলা কাটা বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সবাই জানে বলে চট্টগ্রাম সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন পুটিবিলা ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.